করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় আরাফাত হোসেনের (১৭) মরদেহ নিল না পরিবার। মৃত্যুর ৪৩ দিন পর গত বুধবার বাবা মজনু মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ না নেওয়ার আবেদন করেন। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে মরদেহ নিয়ে পুলিশের উদ্যোগে দাফন করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, আরাফাতের বাবা পরিবার ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা ভেবে মরদেহ গ্রহণে অনিচ্ছার কথা জানিয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে নগরীর ভাটিকাশর গোরস্তানে আরাফাতকে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আরাফাতের বাড়ি ত্রিশাল উপজেলার চরপাড়া এলাকার চড়ুইতলা গ্রামে। গত ২০ এপ্রিল করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সে ময়মনসিংহ নগরীর এস কে হাসপাতালে ভর্তি হয়। দুদিন পরে মারা যায়। এরপর শরীর থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পরিবারের সদস্যরা এতদিন ধরে মরদেহ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
ওসি আরও জানান, আরাফাত বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসায় সুস্থ হয়। বাড়ি ফিরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে এস কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন পর পরিবার অনুমতি দেওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
