অনুদানের টাকা চেয়ে চাকরি হারালেন ইমাম

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০৩:৪১ এএম

করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগের মহামারীতে সারা দেশের মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের নগদ অর্থ চাওয়ায় মাগুরার এক ইমাম চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী হলেন সদর উপজেলার শত্রুজিতপুর ইউনিয়নের সিংহডাঙ্গা উত্তরপাড়া মসজিদের ইমাম আবু সাঈদ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সারা দেশের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের জন্য করোনা পরিস্থিতিতে সহায়তা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা অফিসের মাধ্যমে যথাক্রমে ৩ ও ২ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। মাগুরা সদর উপজেলার ৭৪৭টি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের জন্য বরাদ্দ করা টাকা গত ৩০ মে মাগুরা-১ আসনের সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর বিতরণ করেন। সিংহডাঙ্গা উত্তরপাড়া মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের জন্য বরাদ্দ করা অনুদান মসজিদ কমিটির সভাপতি ও শত্রুজিতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর খোরশেদ আলমের নির্দেশে ওই মসজিদের শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক একরাম হোসেন নেন। একরাম হোসেন পরে টাকা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের কাছে জমা দেন। এই টাকা পেতে গত ৩১ মে সকালে খোরশেদ আলমের কাছে যাই আমি। এ সময় তিনি টাকা না দিয়ে নানা অজুহাত দেখালে আমাদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ওইদিন বিকেলে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পরদিন ১ জুন অনুদানের ৩ হাজার টাকা তিনি আমাকে দেন, তবে চাকরি ফেরত দেওয়া হয়নি।

চাকরিচ্যুত ইমাম জানান, ২০১৯ সালের ১ মার্চ থেকে তিনি ওই মসজিদের ইমামতির চাকরি করছেন। অনুদানের টাকা চাওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত হতে হবে এটি তিনি ভাবেননি।

এ বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের মসজিদের অবস্থা ভালো না হওয়ায় আমি চেয়েছিলাম ওই টাকা দিয়ে মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করব। ওই ইমামকে ঈদের আগেই ছুটি দিতে চেয়েছিলাম। বিভিন্ন কারণে দেওয়া হয়নি। এখন তাকে বাদ দিয়ে আমরা নতুন ইমাম নিয়েছি। ইমাম ও মোয়াজ্জিনের টাকা দেওয়া হয়েছে।’

ইমামের টাকা গ্রহণকারী ওই মসজিদের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের বাংলার শিক্ষক একরাম হোসেন বলেন, ‘আমি মসজিদ কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের কথামতো টাকা তুলে এনে তাকে দিয়েছি। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।’

এ বিষয়ে মাগুরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সিংহডাঙ্গা মসজিদের সভাপতির প্রতিনিধির হাতে আমরা অনুদানের টাকাটা তুলে দিয়েছি। এটি বিতরণ নিয়ে কোনো জটিলতা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইমাম সাহেবের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি মসজিদ কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত