রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তকাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগ গঠিত কমিটির সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বসার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ।
গত ২৭ মে রাতে ইউনাইটেড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান এক নারীসহ পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এ ঘটনায় মৃত ভেরনন অ্যান্থনি পলের জামাতা রোনাল্ড মিকি গোমেজ অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গত বুধবার রাতে গুলশান থানায় করা মামলাটিতে হাসপাতালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, করোনা ইউনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক-নার্স ও সেফটি সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ কাজে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি। এখন পর্যন্ত ১৯ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে। এর মধ্যে আমরা পুলিশের তদন্ত কমিটির সঙ্গেও বসব।’
ডিএমপির গুলশান ডিভিশনের তদন্ত প্রধান এডিসি গুলশান আবদুল আহাদ বলেন, যথাসময়েই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বুধবার দগ্ধ হয়ে নিহত ভেরনন অ্যান্থনি পলের জামাতা রোনাল্ড মিকি গোমেজ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন সেটিও আমরা খতিয়ে দেখব।’
ফায়ার সার্ভিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালটি নিজস্ব সিস্টেমে আগুন নেভাতে সমর্থ হয়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরই গিয়ে আগুন নেভাতে হয়। ফায়ার হাইড্রেন্ট থাকলেও তা চালু হয়নি। এছাড়া অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এগুলো হাসপাতালেরই গাফিলতিরই ইঙ্গিত দেয়।’
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মুক্তিযোদ্ধা ভেরনন অ্যান্থনি পলের জামাতা রোনাল্ড মিকি গোমেজ বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন। হাসপাতালটির চেয়ারম্যান, এমডি, সিইও, পরিচালক, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স, সেফটি ও সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ডিএমপির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গুলশান ডিভিশনের পুলিশকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ করতে বলা হয়েছে। আশা করি যথাসময়ে চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।’
