চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে। গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়ায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সেই থেকে গত বুধবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৭ জনে। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত বাড়তে থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন বাসিন্দারা। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অসচেতনতা ও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতার জন্যই সংক্রমণ প্রকট আকার নিয়েছে। চট্টগ্রাম এখন করোনার অন্যতম হটস্পট। এখনই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে জানান, নগরীর অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। বিগত দুই মাসে মোট আক্রান্তের ২ হাজার ৬৬৬ জনই নগরের। আর ১৪টি উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭১ জন। ইতিমধ্যে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি জেলার করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এরপরও মানুষ সচেতন হয়নি। এখন গণপরিবহনে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জীবনজীবিকা দুটোকে বাঁচাতে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দিয়েছে সরকার। তার মানে এই নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে না। এমনিতেই চট্টগ্রামে রোগী শনাক্তের তুলনায় চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কেউ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন চট্টগ্রামের করোনা প্রস্তুতি নিয়ে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়েছে। এখানে জনসংখ্যা অনুপাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নেই, তা আগেই জানানো উচিত ছিল। শুরু থেকে যথাযথ লকডাউন করা হলে বন্দরনগরী আজ করোনার হটস্পট হতো না।’ তিনি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের হার কমাতে হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে। চট্টগ্রাম ঘনবসতি হওয়ায় বাসিন্দাদের সামাজিক দূরত্ব রেখে চলাফেরা করা সবচেয়ে জরুরি।’
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে, মোট আক্রান্তের মধ্যে মহানগরীতে ৭৬ শতাংশ এবং উপজেলায় ২৪ শতাংশ। মোট আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৫৪৯ জন ও নারী ৮৪৩ জন।
