বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৮ জন। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর এক দিনে এত বেশি রোগী শনাক্তের ঘটনা ঘটেনি আর।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বে এক দিনে রেকর্ড ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১১ জন শনাক্ত হয় গত ৩০ মে। ওইদিন ছিল বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের ঘটনা। আর এক দিন আগেও রেকর্ড ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০৪ করোনা রোগী শনাক্ত হয় বিশ্বে। আর আগের দিন ২৭ মে ছিল ১ লাখ ৬ হাজার রোগী। ওইদিনের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত কোনো দিনই রোগী শনাক্তের সংখ্যা লাখের নিচে নামেনি। এর আগে গত ২২ মে ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয় বিশ্বে। তার আগের দিনও হয় ১ লাখ ৬ হাজারের মতো রোগী।
গত ২৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এক দিনে লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল বিশ্বে। এর মাঝে বেশ কয়েক দিনই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়ায়। এই সময়টাতে গড়ে প্রতিদিন ৮৩ থেকে ৮৫ হাজার মানুষের শরীরে করোনা ধরা পড়ে। ভাইরাসটিতে বিশ্বে প্রথম ১ লাখ রোগী হতে সময় লাগে ৬৭ দিন। এরপর লাখ হয় ১০ দিনে। তারপরের লাখ ৬ দিনে। এভাবে চতুর্থ লাখ রোগী হয় পরের ৪ দিনে। রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ানোর পর অবশ্য প্রতি দুই দিনেই লাখের বেশি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই মাসে এক দিন লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হলেও মে মাসের ২১ তারিখের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ দিনে ১৬ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হলো বিশ্বে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জন। আর মারা গেছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৪ জন।
শীর্ষ আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বুধবারও ১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এদিকে রাশিয়া, ব্রাজিল ও ব্রিটেন সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ব্রাজিলে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৪৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩১ হাজারের বেশি।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলোতে লকডাউন শিথিলের পর হঠাৎই মৃত্যু আর সংক্রমণ বেড়েছে। ব্রিটেন ১৫ জুন থেকে কড়াকড়ি শিথিল করলেও গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
