প্রতিবাদের আগুনে ট্রাম্পের ঘি

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ০২:৩২ এএম

বর্ণবাদী আন্দোলনে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখযোগ্য শহরগুলোর রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা শে^তাঙ্গ আধিপত্যবাদের অবসান চেয়ে আন্দোলন করছে। মিনেসোটা রাজ্যের মিনেপোলিসে শে^তাঙ্গ পুলিশের হাতে নির্মমভাবে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় যখন দেশটির আপমার মানুষ সমর্থন দিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বেফাঁস মন্তব্য করে বিক্ষোভের আগুনকে আরও উসকে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, ‘গ্রেট ডে ফর জর্জ ফ্লয়েড।’ এমন মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

টেলিভিশনে প্রচারিত হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘গত সপ্তাহে কী ঘটেছে তা আমরা সবাই দেখতে পেয়েছি। আমরা এমনটা ঘটতে দিতে পারি না। আশা করছি, জর্জ নিচের দিকে তাকিয়ে বলছে, “আমাদের দেশে যা ঘটছে, যা খুবই ভালো হচ্ছে।” সাম্যের দিক দিয়ে এটি একটি দুর্দান্ত, সত্যিই দুর্দান্ত দিন।’

করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেন। তার ভাষণের প্রায় পুরো অংশজুড়েই ছিল দেশের অর্থনীতির ইতিবাচক সব দিকের কথা, যে ইতিবাচকতাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ‘রকেট’ অবস্থা বলে আখ্যা দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এই গ্রেট ডে মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের লাখো আন্দোলনকারী দেখতে পেয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউজ এ ঘটনাকে মিথ্যা ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। হোয়াইট হাউজের সিনিয়র কমিউনিকেশন উপদেষ্টা বেন উইলিয়ামসন টুইট বার্তায় বলেন, ‘এটা খুবই পরিষ্কার যে, প্রেসিডেন্ট আইনের অধীনে বিচার ও চিকিৎসা পাওয়ার সাম্যতা নিয়ে কথা বলেছেন। ‘ফ্লয়েডের মুখ দিয়ে কথা বলিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের ঢং সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে। ডেমোক্রেটিক নেতা জো বাইডেন ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করে একে ‘ঘৃণ্য’ বলেছেন। টুইট বার্তায় জো বাইডেন বলেন, ‘জর্জ ফ্লয়েডের শেষ কথা, “আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না”, এটা আমাদের জাতি ও গোটা বিশ্বে ধ্বনিত হচ্ছে। অথচ প্রেসিডেন্ট যেভাবে তার মুখে অন্য কথা চেপে দিয়েছেন, তা খুবই ঘৃণ্য হয়েছে।’

গত ২৫ মে ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের মাঝে অনেক স্থানেই সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বিক্ষোভ দমাতে দেশে সামরিক বাহিনী নামানোর হুমকি দেন। অথচ তিনি নিজেকে ‘আইনের শাসক’ হিসেবে উপস্থাপন করেন প্রায়ই। ন্যাশনাল গার্ড নামানো নিয়ে তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় রাজ্যগুলোর গভর্নরদের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

আগেও বিভিন্ন সময়কার বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রশ্নে আফ্রো আমেরিকানদের ওপর থেকে অসাম্য দূর করার কথা বলেছেন। গত শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কি দেখতে পাচ্ছি, আফ্রিকান আমেরিকান কমিউনিটি, এশিয়ান আমেরিকান, হিসপানিক আমেরিকান ইত্যাদি বর্ণের নামে যা হচ্ছে। আমাদের দেশ খুব শক্তিশালী। আর এই শক্তিশালী অবস্থাকে কাজে লাগিয়েই আমরা বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী স্থান নিতে চাই।’ তিন বছর ধরে ট্রাম্প ক্রমাগত দাবি করছেন যে তিনি আফ্রো আমেরিকান কমিউনিটির জন্য অনেক কিছু করেছেন, যা প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের পর থেকে কোনো প্রেসিডেন্টের আমলে হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত