অভিবাসীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ০৬:৫৫ এএম

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) মহামারীকালে অভিবাসীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এক উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘কভিড-১৯-এর প্রাক্কালে অভিবাসন : অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও রেমিট্যান্স’ শীর্ষক এ আলোচনা গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়।

অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশগুলো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো ও বেবিন যৌথভাবে ‘অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশগুলোর’ গ্রুপের সহ-আহ্বায়ক। আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রবাসী মন্ত্রী সিয়ারান ক্যানন টিডিসহ অভিবাসী পাঠানো ও গ্রহণকারী দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়ন-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ড. মাহমুদ মোহাইয়েলদিন, আইএফএডি, ডব্লিউএইচও এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

আলোচনায় জানানো হয়, ব্যাপকভাবে কভিড-১৯-এর প্রভাবজিনত ভয়াবহতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীরা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই অধিকার, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা এমনিক চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না।

স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা বলেন, অভিবাসীরা হচ্ছেন গ্রহণকারী দেশগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখা প্রথম সারির কর্মী। এমনকি এই করোনাকালেও এ কথা সত্য। তাই ওই সব দেশ করোনাভাইরাস মোকাবিলা ও উত্তরণে যে পরিকল্পনা ও প্যাকেজ গ্রহণ করেছে তাতে অবশ্যই অভিবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।

অনেক দেশ থেকে অভিবাসীদের জোর করে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় অবশ্যই জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনদের সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।

রাবাব ফাতিমা আরও বলেন, অর্থনীতি ও সমাজে অভিবাসীদের অবদানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই পুনরায় অভিবাসীদের উপযাগী পরিস্থিতি বজায় রাখতে কাজ করতে হবে। না হয় শুধু অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার বৃদ্ধি পাবে। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘পিপল অন দ্য মুভ’ শীর্ষক বিবৃতিকে স্বাগত জানান।

সভায় বক্তারা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, অভিবাসীদের নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ও কভিড-১৯-এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোত রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ শতাংশেরও অধিক হ্রাস পাওয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণের কথা তুলে ধরে তারা সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের রেমিট্যান্স নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত