বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম থেকেই কৃষি খাতে ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে। এটা তাদের সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারও বটে। এর আগের বছরগুলোতে কৃষির আধুনিকায়ন করতে যান্ত্রিকীকরণে সরকারি ভর্তুকি ও বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এবার কৃষিতে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়লেও কমছে ভর্তুকির পরিমাণ। তবে ভর্তুকি কমলেও কৃষকদের সার্বিক সহায়তা কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করে কৃষি মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে কৃষিতে ভর্তুকি কমছে ১০০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতি বছর কৃষকের ভর্তুকির টাকার একটি অংশ অব্যয়িত থেকে যাচ্ছে। কারণ সারের ওপর ভর্তুকি কম দিতে হচ্ছে। কৃষক এখন ইউরিয়া সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। ফলে সারে কম ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এজন্য বাজেটে ভর্তুকি কমলেও কোনো সমস্যা হবে না। তবে আমরা কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছি। চলতি বাজেটেও কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২০-২১ বাজেটে এ খাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। কৃষি খাতের এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা বেশি। মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। পরে অর্থ ব্যয়ের গতি না থাকায় বছরের মাঝপথে এসে বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়। এ হিসাবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে কৃষি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। তবে কৃষি খাত বলতে এখানে কৃষি মন্ত্রণালয় ছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দও রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের আলাদা মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।
চলতি বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকিসহ উন্নয়ন-অনুন্নয়ন ব্যয়সহ ১৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিতে ভর্তুকি কমাতে দাতা সংস্থার চাপ অব্যাহত থাকলেও সরকার কৃষিতে ভর্তুকি বাড়াতে কারও চাপ আমলে নেয়নি। এর কারণ কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রেখে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে চায় সরকার।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সার, সেচ কাজে ডিজেল বরাদ্দ, বিদ্যুৎ ও কৃষি উপকরণ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য ভর্তুকি দিতে বলা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের খরচ কমাতে সেচ কাজে ডিজেল ব্যবহারে ১৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কৃষি বাজেটে কৃষি উৎপাদন খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ থাকছে। এর একটি অংশ যাবে গ্রামে। কৃষিঋণ বাড়াতে ও গ্রামের হাটবাজারগুলোকে অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজ হিসেবে গড়ে তুলতে ও কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণে স্বীকৃতি প্রদানসহ স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করব, কৃষিকে আমরা কমার্শিয়ালাইজ করব, কৃষিকে আমরা ডাইভারসিফাই করব। এ সময় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) সঙ্গে মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরি ও ডিজেল প্লান্টের একটা লিংক স্থাপনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিএআরআই যে যন্ত্রপাতিগুলো উদ্ভাবন করছে এগুলো যেন মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরিতে অথবা ডিজেল প্লান্টে তৈরি করা যায় এ দুটির মধ্যে একটা সংযুক্তি চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। যেন মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরির সঙ্গে সংযুক্তি হয়। এটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যদেরও বলেছেন তিনি।
