ইংল্যান্ডে ক্রিকেট ফেরানোর সহযোগিতায় মুগ্ধ গাওয়ার

উইন্ডিজের স্পিরিট সবার থাকা উচিত

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ১২:০২ এএম

ইংল্যান্ডকে যে সহযোগিতার স্পিরিট দেখাল উইন্ডিজ তাতে অভিভূত ডেভিড গাওয়ার। ইংল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটার উইন্ডিজের পদাঙ্ক অনুসরণ করার আহ্বান জানালেন ক্রিকেট বিশ্বকে। তার মতে ক্রিকেটকে আবার মাঠে ফেরাতে উইন্ডিজের মতো সহযোগিতার মনোভাব সবার থাকা উচিত। সামনের সপ্তাহে তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে পা রাখবে উইন্ডিজ দল। এ দুই দলের লড়াই দিয়ে অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরবে ক্রিকেট।

ক্রিকেটে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার মূল হলো আন্তর্জাতিক খেলা। এখানে ফুটবলের মতো ক্লাব ক্রিকেট জনপ্রিয় নয়। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না থাকায় একেক ক্রিকেট বোর্ড মোটা অঙ্কের ক্ষতিতে পড়ছে। এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে যদি কোনো সিরিজ না হতো তবে ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতির মুখে পড়ত ইসিবি। কিন্তু উইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি সিরিজ খেলা নিশ্চিত করে সেই ধাক্কা সামলাতে পেরেছে ইসিবি। সাবেক অধিনায়ক গাওয়ারের মতে, ‘প্রথম দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডে খেলতে রাজি হয়ে উইন্ডিজ খুব উপকার করেছে তাদের, উইন্ডিজ আমাদের বিরাট উপকার করেছে। এটা একটা কঠিন মুহূর্ত, বিরাট চাপেরও। এমন সময় পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার দিকে না তাকিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটের জন্য এটা বিরাট স্বস্তির খবর কারণ শুরুটা জরুরি ছিল। উইন্ডিজের কল্যাণে সেটা সম্ভব হয়েছে।’

লর্ডসের নিজস্ব চ্যারিটি ‘লর্ডস টাভের্নাস’ এর নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন গাওয়ার। অক্ষত ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের উন্নতিতে কাজ করে এই দাতব্য সংস্থাটি। গাওয়ার জানান, পৃথিবীতে একমাত্র ফুটবলই ব্যতিক্রম। খেলাটির ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মতো আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। কিন্তু ক্রিকেটে ক্লাব বা কাউন্টির খেলা কেউ দেখে না। তাই এদিক থেকে আয়ের পথ নেই। গত বছর বিশ্বকাপ এবং অ্যাশেজ মিলিয়ে ইংল্যান্ডের ভালো সময় কেটেছে কিন্তু এবার খেলা না হলে পত্রিকায় বা টেলিভিশনে লেখা বা দেখানোর মতো কোনো খবরই থাকবে না। আর যে ক্ষতিটা হবে তার প্রভাব টেস্ট, কাউন্টি, ক্লাব এমনটি স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেটেও পড়বে।’

গাওয়ারের মতে উইন্ডিজের মতো সহযোগিতার মনোভাবই ক্রিকেটের সব সমস্যা দূর করতে পারে, করোনাভাইরাস ছাড়াও ক্রিকেটে সমস্যা অনেক আছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশেরই অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সমস্যা আছে। এগুলো সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না। একমাত্র একে অন্যের সহযোগিতাই এসব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ খুলে দেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত