৬ দফা বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০৫:০২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা ঘোষিত ৬ দফা বাঙালির কাছে সে সময় তাদের মুক্তির দাবি, বাঁচার দাবি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৬ দফা দাবিটা জনগণ এমনভাবে লুফে নিয়েছিল, আমি জানি না, পৃথিবীর কোনো দেশে এত দ্রুত কোনো দাবি এত বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল কি না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষ একে নিয়েছিল তাদের বাঁচার অধিকার হিসেবে এবং এটা প্রকৃতও তাই ছিল।’

ঐতিহাসিক ৬ দফা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার গণভবনে পূর্বে ধারণকৃত আলোচনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা সভাটি প্রচারিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাই ছিল সব থেকে বড় বিষয় যে, এত দ্রুত এই দেশের মানুষ ৬ দফাকে শুধু সমর্থনই করেনি তারা স্বায়ত্তশাসনের এই দাবিকে নিজের দাবি হিসেবে গ্রহণ করল।’

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে সময় দেখা গেল আমরা খুবই অরক্ষিত। ভারত-পাকিস্তান যখন তাসখন্দ চুক্তি করল তখনো এই পূর্ববঙ্গ ছিল অরক্ষিত। তারপরে যখন ৬ দফা দেওয়া হলো তখনই এদেশের গণমানুষ জেগে উঠল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ দফার ভিত্তিতেই সত্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। কাজেই ৬ দফা এবং ৭ জুনের কারণে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেজন্য দিবসটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করতে হয়েছে। আবার ৭ জুন আমাদের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, সেখানেও রক্ত দিয়ে আমাদেরকে লিখে যেতে হয়েছে যে, আমরা আমাদের স্বাধিকার চাই।

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে আলোচনায় অংশ নেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীও অংশ নেন।

১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা আন্দোলনকে সফল করার জন্য আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকযন্ত্রের পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে আত্মাহুতি দানকারী শ্রমিক নেতা মনু মিয়া, আবুল হোসেন, শফিক, শামসুরসহ সব শহীদকে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঞ্চনার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আর তারই পথ বেয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কাজেই আজ এই ৭ জুন যারা জীবন দিয়ে সেদিন বাঙালির অধিকারের কথা বলে গেছেন আমি তাদের স্মরণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে ধাপে ধাপে এই বাঙালিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুনের হরতাল থেকে শুরু করে আন্দোলনে আমার মায়ের বিরাট ভূমিকা ছিল। আমি আজকের দিনে বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবকেও স্মরণ করছি। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদকে এবং সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে।’ তিনি জাতির পিতার ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনারা এই বইটি পড়লে দেখতে পাবেন সে সময় কীভাবে পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি এদেশের মানুষের ওপর গ্রেপ্তার এবং অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল।

সিআরপিকে ১০ কোটি টাকা অনুদান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি)-কে ১০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সিআরপিকে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন, যাতে এটি ভালোভাবে পরিচালিত হতে পারে এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করতে পারে।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা, সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনের জন্য দেশে ১৯৭৯ সালে সিআরপির যাত্রা শুরু হয়। সংস্থাটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের বিশেষ ধরনের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিকগুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শারীরিক, মানসিক সহায়তা প্রদান করে।

সিআরপি দেশে স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসনে দক্ষ কর্মী বিকাশে সহায়তা করছে। এটি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিবন্ধীদের জন্য পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেবাকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। বাসস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত