করোনামুক্ত না হলেও অর্থসংকটের কারণে চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন করোনাকালে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ‘করোনা পজিটিভ’ নিয়েই গত শুক্রবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। আর পরদিন শনিবার হাসপাতাল ছেড়ে ঢাকায় নিকটাত্মীয়র বাসায় উঠেছেন খোরশেদের করেনামুক্ত স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা।
চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই হাসপাতাল ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে গতকাল রবিবার কাউন্সিলর খোরশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। আমার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। ওখানে ভর্তি না হলে কী হতো তা আমি জানি না। হাসপাতাল আমাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি আর পেরে উঠছি না।’
ভর্তির পর থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের (স্বামী-স্ত্রী) দুজনের চিকিৎসায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিল এসেছে জানিয়ে খোরশেদ বলেন, ‘এই টাকার বাইরে খরচ করার ক্ষমতা আমার নেই। তাই হাসপাতাল থেকে চলে এসেছি। কিন্তু আমার আরও কয়েক দিন থাকা উচিত ছিল। অন্তত প্রথম দফায় নেগেটিভ আসা পর্যন্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে (গতকাল) পর্যন্ত ৭২টি লাশ দাফন করেছে আমাদের টিম। সুস্থ হয়ে আবার মানুষের পাশে দাঁড়াব ইনশা আল্লাহ। যত দিন সুস্থ ও বেঁচে আছি, এই করোনায় ও করোনার বাইরে সব সময় মানবসেবা করার তৌফিক যেন আল্লাহ দেন। সেই প্রার্থনা করি।’
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আক্রান্তদের সেবা এবং করোনা আক্রান্তসহ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৬১ জনের মরদেহ দাফন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তার এই ভূমিকা দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। করোনায় মৃত হিন্দু ব্যক্তিদেরও সৎকার করেন তিনি ও তার টিম। এ কারণে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’, ‘করোনা যোদ্ধা’, ‘করোনা বীর’, ‘সুপার হিরো’সহ ইতিমধ্যে নানা খ্যাতি পেয়েছেন কাউন্সিলর খোরশেদ।
