রাজধানীর কমলাপুর এলাকা থেকে মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সুজন নামের ওই ব্যক্তিকে গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গত শুক্রবার রাতে সুজনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করেন লিবিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ইছার উদ্দিনের স্ত্রীর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি সুকৌশলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় মানব পাচার করে আসছিল। তাদের আরও কয়েকজন সহযোগীকে ধরতে ডিবি পুলিশের অভিযান চলছে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানাধীন হযরত আলী, তার ছেলে সজীব, সুজন ও সঞ্জিত মিলে ইছারকে লিবিয়া পাঠান। তাদের সঙ্গে একই এলাকার জাফর, মামুন, শাকিল ও কাউছার বিদেশে মানব পাচার করে থাকেন। জাফর ও সজীব আগে লিবিয়ায় থাকতেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে লোকজনকে অনেক টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া নিয়ে টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করেন।
মানব পাচারকারী চক্রটি ইছার উদ্দিনসহ ভৈরবের সজল ও বিজয় নামে তিনজনকে লিবিয়া পাঠিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। একজনকে মানব পাচারকারী চক্রের টর্চার সেল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় নির্যাতনকারী সজীব তাদের বলেছেন, ‘সব টাকা দিবি। মুক্তিপণের টাকা আমরা একা খাই না। সিরিয়া ও লিবিয়ায় অংশগ্রহণকারী ধর্মযোদ্ধা ও মিলিশিয়াদের এই টাকার ভাগ দিতে হয়। তাদের নির্দেশে আমরা কাজ করি। গত বছরের নভেম্বর মাসে লিবিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নেত্রকোনার বাসিন্দা ইছার উদ্দিনকে চট্টগ্রাম থেকে দুবাই হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়।
