অর্থনীতি পুনরুদ্ধার

অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর পরামর্শ

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০৬:৫৩ এএম

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা জরুরি। এ ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিতে হবে।

গতকাল রবিবার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও খাত সংশ্লিষ্টরা। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক টেকসই, পুনরুদ্ধার, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ, এফডিআই ও ওএফডিআই বিষয়ে ওয়েবিনার করে এফবিসিসিআই। সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, সফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবদুল মাতলুব আহমাদ প্রমুখ অংশ নেন।

কারোনার প্রাদুর্ভাবে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যাংকঋণভিত্তিক যেসব প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাত সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। তার ওপর সরকার ব্যাংক ঋণভিত্তিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এতে অর্থনীতির উন্নতি হবে। তবে প্রণোদনা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি বাংলাদেশ ব্যাংক অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে। এ উদ্যোগটি স্বল্পমেয়াদি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, প্রয়োজনে ৫, ১০ অথবা ১৫ বছর মেয়াদি প্রকল্প নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এতটা কমে যাওয়া আসলেই দুঃখজনক। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি ঋণ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে। পাশাপাশি দেশীয় দক্ষশক্তি বাড়াতে হবে। কারণ দক্ষ জনশক্তি না থাকায় দেশ থেকে প্রতি বছর ৫০০ বিলিয়ন অর্থ চলে যাচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে।

আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, এখন সময় দেশীয় ইন্ডাস্ট্রিকে সাপোর্ট দেওয়ার। পণ্য উৎপাদন করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর, রপ্তানি করা যাবে। বাংলাদেশটাকে পুরো ইপিজেডের মতো করে দেবেন। দেশটাই পাল্টে যাবে। চলমান পরিস্থিতিতে যেসব পণ্য রপ্তানি করতে সমস্যা হচ্ছে তা দেশের বাজারে সরবরাহের পরামর্শ দেন তিনি।

মাশরুর রিয়াজ বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রথমে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট চলছে। এ অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। আগামী বাজেটে ৭-৮ শতাংশ ঘাটতি থাকতে পারে। তবে বাজেটে নতুন করে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

এফবিসিসিআই সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করোনাসংকট মোকাবিলায় কর্মসংস্থান তৈরির কোনো বিকল্প নেই। কারণ ইতিমধ্যেই ১৪ লাখ কর্মী বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন। তাদের পাশাপাশি দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সক্রিয় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত