করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ বন্ধ থাকার পর গত ১৭ মে লিগসহ পুরো ফুটবল মৌসুমই বাতিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ক্লাবগুলোর চাওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে। তবে মৌসুম বাতিল হলেও ক্লাবগুলোর সঙ্গে দেশি ফুটবলারদের চুক্তির বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। যা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন খেলোয়াড়রা। তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির।
জাতীয় দল ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা যেমন দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন, ‘এখনো তো এনিয়ে (ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি) আমরা পরিষ্কার না। সত্যি বলতে মোটামুটিভাবে চিন্তিতই। আশাকরি ফেডারেশন এবং ক্লাব অফিশিয়াল মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে ভালো একটা সিদ্ধান্তে অবশ্যই আসবে। এর জন্য অপেক্ষা করছি।’
বসুন্ধরা কিংসে খেলা জাতীয় দলের তারকা ডিফেন্ডার তপু বর্মন বলছেন, ‘আমাদের পরবর্তী মৌসুম কবে শুরু হবে তা কিন্তু আমরা এখনো জানি না। দলবদল কবে হবে সেটাও জানি না। যেহেতু মৌসুমের খেলা আর হবে না, আমার মনে হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত। সেটা হলে খেলোয়াড় এবং ক্লাব দুই পক্ষের জন্যই ভালো হবে।’
দলটির সিনিয়র ফুটবলার, জাতীয় দলের তারকা তৌহিদুল আলম সবুজেরও একই মত। বলছিলেন, ‘আমরা স্থানীয় খেলোয়াড়রা আসলে অনেক টেনশনে আছি। এমনিতেই খেলা নেই, খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত। চুক্তির বিষয় নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসে বলতে পারি না। যে সিদ্ধান্তই আসুক সেটা দ্রুত হলে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে চিন্তা মুক্ত হতে পারে।’
ক্লাব কী ভাবছে
সমাপ্তি টেনে দেওয়া মৌসুমে সবচেয়ে বিগ বাজেটের দল ছিল বসুন্ধরা কিংস। প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ফেডারেশন কাপ শিরোপা জিতে নেওয়ার মাধ্যমে মৌসুম শুরু করে। জাতীয় দলের অধিকাংশ তারকাদের নিয়ে দল গড়ে তারা। ক্লাবটির খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিকের ৮০ শতাংশই পেয়ে যায় মৌসুমের শুরুতে। কিন্তু মৌসুমে যখন অর্ধেক খেলাও হয়নি, তখন বড় ক্ষতিই গুনতে হচ্ছে দেশের ফুটবলের নতুন শক্তিকে।
কর্পোরেট দলটির সভাপতি ইমরুল হাসান তাই দেশি খেলোয়াড়দের চুক্তির বিষয়ে এখনো দিক নির্দেশনা না পাওয়ায় একটু হতাশই বলতে গেলে।
বলছিলেন, ‘বাফুফে তো এটা কিছু বলেনি। জানিয়েছিল, পরে বলবে। আমরাও ঝুলে আছি আসলে। কারণ যেহেতু এ বছর হয়নি, আমাদের তো পরবর্তী মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন কীভাবে কথা বলব সেটাও বুঝতেছি না…। আমরা এএফসি কাপের জন্য গত ক’দিন বেশ ব্যস্ততায় ছিলাম। আশা করছি খুব দ্রুতই এনিয়ে লিখিত ভাবেই বাফুফেকে জানাব।’
শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের স্পোর্টস ডিরেক্টর সালেহ জামান সেলিম বলছেন, ‘দেখুন, আমরা ক্লাবগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলেই কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন লিগ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ফেডারেশন কিন্তু চায়নি লিগ বন্ধ হোক। কিন্তু আমরা দেশের পরিস্থিতি, নিজেদের পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি; সবমিলে ক্লাবগুলো ঠিক করি নিজেরে জান বাঁচানো যেখানে কঠিন, সেখানে খেলা কীভাবে হবে…।’
‘হ্যাঁ, মৌসুম বাতিল হলেও খেলোয়াড়দের কি হবে এনিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু বিদেশিদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদেশিদের নিয়ে যেটা ফিফার গাইডলাইনস আছে, সে অনুযায়ীই হয়েছে। এখন দেশি খেলোয়াড়দের বিষয়টি ঝুলে আছে।’
তিনি বলে যান, ‘আমি আমাদের সাধারণ সম্পাদকের (বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ) একটি সাক্ষাৎকার দেখলাম। তিনি বলেছেন, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সঙ্গে বসে যাতে কোনো পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি বিবেচনা করেই সুরাহা করব।’
এরপর তিনি বাতিল মৌসুমে ক্লাবের আর্থিক ক্ষতির দিকটি তুলে ধরলেন, ‘এটা তো সত্যি, কেউ ৬টা ম্যাচ খেলেছে, কেউ ৫টা, কেউ ৪টা। কিন্তু ৮০-৯০ ভাগ পেমেন্ট নিয়ে নিয়েছে খেলোয়াড়রা। লাভবান কিন্তু ওরা, আমরা ক্লাব এখানে ক্ষতিগ্রস্ত। আমি ব্যক্তিগতভাবে সভাপতি সাহেবকে (বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন) বলেছি, আমরা কি ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকব। তিনি বলেছেন, ‘‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসি, এরপর ক্লাবের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’’
সালেহ জামান সেলিম যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি নিজে এটি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং উনি অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত দেন। ওনার সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। এখন দেখি ওনারা আমাদের কি বলে আর খেলোয়াড়দের কি বলে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলতে পারি উভয়ের যেন ক্ষতি না হয় সেই সিদ্ধান্ত আসুক।’
এ ব্যাপারে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে সফল ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার, বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য সত্যজিৎ দাশ রুপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলাকেই বরং আগে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন।
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘এখন আসলে আমরা এসব বিষয় নিয়ে চিন্তার জায়গায় নেই। এখন দেশের করোনার যে পরিস্থিতি, এটা মোকাবিলা করাই সব থেকে বড় ইস্যু। সবাই এখন কিভাবে করোনা মুক্ত থাকবে, অন্যকে কীভাবে মুক্ত রাখবে, এই হলো সবার পলিসি। এখন আসলে এইগুলো নিয়ে ভাবার সময় নয়। তবে এটা একটা ত্রিপক্ষীয় ব্যাপার। ফেডারেশন, ক্লাব, খেলোয়াড়- সবাই বসে নিশ্চয়ই একটা সমাধান হবে।’
এদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ম্যানেজার আমের খান বিষয়টিতে খুব বেশি জটিলতা দেখছেন না। সাবেক এই ফুটবলারের মতে যেহেতু মৌসুম শেষ, খেলোয়াড়রাও এখন ফ্রি হয়ে গেছেন।
আমের বলেন, ‘আসলে বিদেশি বলেন আর দেশি, লিগ যখন বাতিল হয়ে যায়, তখন সবকিছুই কিন্তু শেষ হয়ে যায়। আমাদের দেশে সাধারণত যেভাবে চুক্তি হয় আরকি…। আমরা তো দুই-চার বছরের জন্য কোনো খেলোয়াড়ের সাথে চুক্তি করি না। হয়তো এখন বিচ্ছিন্ন কিছু ক্লাব বা খেলোয়াড় করছে। তবে বেশিরভাগ ক্লাবই খেলোয়াড়দের সাথে এক মৌসুমের জন্য চুক্তি করে। সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রাও এখন ফ্রি হয়ে গেছে…।’
ফেডারেশন কী বলছে
লিগ ও মৌসুম বাতিলের ঘোষণা দিয়ে গত ১৭মে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছিলেন, ‘পরিত্যক্ত (মৌসুম) যখনই আমরা ঘোষণা করেছি, তখনই কিন্তু অনেক বিষয় চলে আসছে। পরবর্তী লিগ, খেলোয়াড়দের ক্লাবের সাথে তাদের যে চুক্তি ছিল সেই চুক্তির মেয়াদ, অথবা এই খেলোয়াড়গুলো এই ক্লাবের সাথেই পরবর্তীতে অংশ গ্রহণ করবে কিনা, অথবা খেলোয়াড় ক্লাবের সাথে থাকবে কিনা এসব বিষয়গুলো কিন্তু আসবে। সে ক্ষেত্রে যখন এই ইস্যুগুলো আসবে, তখন আমরা এগুলোকে নিয়ে একটা আলাদা মিটিং করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ অবস্থায় বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, দ্রুতই তারা সমাধান করতে চান বিষয়য়টির। এ সপ্তাহের মধ্যেই এনিয়ে কাজ শুরুর কথাও জানান তিনি।
আবু নাঈম বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে (এ সপ্তাহে) বিষয়টি নিয়ে গুছিয়ে বলতে পারবো। কারণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কবে বসা, ক্লাবের সঙ্গে বসা, আমাদের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেওয়া…। সব মিলে আগামী সপ্তাহে প্রপার আউটলুক থাকবে। কারণ আমরা আশা করছি, খেলোয়াড়দের অন্তত জানাব ওদের সঙ্গে কবে বসতে চাই। ক্লাবের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেব। আমাদের কর্মকর্তাদের ফিডব্যাক নেব। সব পক্ষের কথা শুনে গাইড লাইন দাঁড় করানোর চেষ্টা করব।’
এ মৌসুমের চুক্তিতেই পরবর্তী মৌসুম?
করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৪ মার্চ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের খেলা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তখন পর্যন্ত ১৩ দলের লিগের পাঁচ রাউন্ডের খেলা পুরোপুরি শেষ হয়েছিল। সাতটি ক্লাব খেলেছিল ৬টি করে ম্যাচ। অর্থাৎ বাতিল হওয়ার আগে লিগ অর্ধেকও হতে পারেনি। লিগের আগে হয়েছে একটি মাত্র টুর্নামেন্ট- ফেডারেশন কাপ।
এ অবস্থায় গুঞ্জন আছে, অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের এই মৌসুমের চুক্তিতেই পরের মৌসুম খেলানোর পক্ষে। তাতে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে ক্লাবগুলো।
বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান বলছিলেন, ‘অনেক ক্লাবই বলেছে এই দলবদলে পরবর্তী মৌসুম শুরু করার জন্য। সে ক্ষেত্রে সালাম ভাইকে (সালাম মুর্শেদী) বলেছি, এমন যদি করেন তাহলে এক সিজনের টাকা দিয়ে আরেক সিজন খেলা অমানবিক হয়ে যাবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে যে চুক্তি ছিল তারচেয়ে হয়তো ২০ শতাংশ বেশি দিয়ে হতে পারে। তাতে খেলোয়াড়রাও সুবিধা পেল, ক্লাবের জন্যও সেটা ক্ষতির হলো না।’
বসুন্ধরা কিংস তাই নতুন করে দল বদলের পক্ষে নয় বলেই জানালেন ক্লাব সভাপতি, ‘এখন যদি নতুন করে আমরা কোনো খেলোয়াড় কিনতে যাই, সেটা আমাদের জন্য তো ক্ষতি। কারণ আমরা অলমোস্ট ফুল পেমেন্ট করেই ফেলেছি। এ রকম প্রস্তাব মৌখিক বলেছি। দেখি ওনারা (বাফুফে) কি চিন্তা করছেন…।’
তবে এ ক্ষেত্রে মুদ্রার উল্টো দিকটা দেখার প্রস্তাবও থাকছে কিংসের পক্ষে, ‘ধরেন একজন খেলোয়াড় কোনো ক্লাবের সঙ্গে ১০ লাখ টাকায় চুক্তি করেছে। যেহেতু অন্তত মৌসুমের ৩০ শতাংশ খেলা শেষ হয়েছে। আমরা যদি সেভাবেও ধরি, সে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা পাওয়ার যোগ্য। এটা সে পেল কিনা তা বাফুফেকে মনিটরিং করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবই থাকবে।’
এই প্রসঙ্গে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের স্পোর্টস ডিরেক্টর সালেহ জামান সেলিম বলছেন, ‘দেখুন আমাদের ক্লাবে এমন খেলোয়াড় আছে, যার সঙ্গে মৌসুমের ৬০ লাখ টাকার চুক্তি, সে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে নিয়েছে। তো এটা আগামী মৌসুমে আমাদের তো পুষিয়ে নিতে হবে। তাকেও ছাড় দিতে হবে, আমাদেরও ছাড় দিতে হবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত এখানে খেলোয়াড়দের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা বলেছে, ক্লাব যদি না খেলে আমরা তো বসে থাকব। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। এটা খেলোয়াড়রাও বলেছে।’
এ ক্ষেত্রে সালেহ জামান সেলিম নিজের ব্যক্তিগত ভাবনাটা তুলে ধরে আরো পরিষ্কার করেন বিষয়টি, ‘আমি যখন এই চুক্তিতেই খেলাব, তখন কিন্তু সে আমার ক্লাবে ফাইট দিয়ে খেলতে চাইবে না। সে চিন্তা করবে পয়সা পাইনি, আমি কেন আমার বডি শেষ করব। অন্য ক্লাব হয়তো চাচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা পছন্দ করি না। কারণ তখন খেলোয়াড়রা খেলায় মন বসাবে না। তাই আমার ব্যক্তিগত মত খেলোয়াড়দের (নতুন মৌসুমে) কিছু দিতে হবে।’
সত্যজিৎ দাশ রুপুকে এই প্রশ্ন করলে বলেন, ‘আমি যেটা একটু আগে বললাম, এটা ত্রিপক্ষীয় বিষয়। আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হতে হবে। এখন ধরেন খেলোয়াড় যদি না খেলে তাহলে খেলা কীভাবে হবে। ক্লাব যদি বলে খেলব না, তখন ফেডারেশন খেলা চালাবে কি করে? ফেডারেশন যদি বলে, আমি খেলা চালাব না, তখন খেলোয়াড় বা ক্লাবই বা কি করবে? সুতরাং এটা সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সবকিছু চিন্তা করতে হবে।’
তবে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান এক মৌসুমের চুক্তিতে খেলোয়াড়দের দুই মৌসুম খেলানোর বিপক্ষে বললেন সরাসরি। সাবেক এই ফুটবলার বলছেন, ‘ক্লাব যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি খেলোয়াড়রাও কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণেই আসলে এটা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, যেহেতু অনেক ক্লাব দাবি করছে খেলোয়াড়দের অধিকাংশ টাকা তারা দিয়েছে। আবার অনেক খেলোয়াড় কিন্তু সেভাবে টাকা পায়নি।’
‘সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, যে খেলোয়াড় ৯০ শতাংশ টাকা নিয়েছে সে নৈতিক দিক থেকেই অন্য দলে যাবে না। পুরোনো ক্লাবকেই সে প্রাধান্য দিতে চাইবে, এটা সাবেক ফুটবলার হিসেবে আমি বলতে পারি। তবে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা সে রকম টাকা পাইনি। এখন তার তো অন্য দলে যাওয়ার অফার থাকতে পারে। যারা বেশিরভাগ টাকাই খেলোয়াড়কে দিয়েছে তারা ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে টিম গঠন করবে, এটা আমার ব্যক্তিগত মত।’
উন্মুক্ত দল বদলের পক্ষে খেলোয়াড়রা
এমনিতেই করোনার কারণে মৌসুম স্থগিত। সেখানে এক মৌসুমের চুক্তিতে দুই মৌসুম খেলা হলে সেটা খেলোয়াড়দের জন্য আরো বড় ক্ষতির হবে বলে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের মত। বিশেষ করে কম পারিশ্রমিকের খেলোয়াড়দের জন্য এটি হবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির, এমনটাই বলছেন তারা।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবের বড় অঙ্কের চুক্তি, এমন সংখ্যাটার তুলনায় ছোট অঙ্কের চুক্তির সংখ্যাটাই বেশি। আবার প্রথম সারি ক্লাবগুলো বাদ দিলে নিচের সারির ক্লাবগুলোর দিকে তাকালে ওঠে আসবে অন্য চিত্র। সেখানে অনেক খেলোয়াড় সেভাবে পারিশ্রমিক পেয়েছে কিনা সেটিও বিষয়। তাই এক মৌসুমের চুক্তিতে দুই মৌসুমের বিপক্ষেই বলছেন বেশিরভাগ খেলোয়াড়। বড় ক্লাবগুলোর বেশ ক’জন শীর্ষ খেলোয়াড় বরং এ মৌসুমের চুক্তির বিষয়ে ক্লাবের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে। খেলা খুব বেশি না হলেও সব মিলে ৬ মাস ক্লাবের সঙ্গে কাজ করার কথাও বলছেন তারা। সে ক্ষেত্রে ৬০-৭০ শতাংশ পরিশ্রম পাওয়া যৌক্তিক মনে করেন খেলোয়াড়রা। পুরো বিষয়টি নিয়ে তাই জটিলতা নিরসন চান তারা। এ ক্ষেত্রে নিজেদের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক খেলোয়াড়রা।
এ প্রসঙ্গে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘সবাই যার যার মতো করে চাইবে। আমাদের পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে, দেশের ইকোনমি, ক্লাবের অর্থনৈতিক অবস্থা, স্পন্সররা কতটা টাকা-পয়সা দিতে পারবে, সবকিছু বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খেলোয়াড়, ক্লাব সবার বিষয়টিই মাথায় রাখতে হবে। কেউ যেন ক্ষতি গ্রস্ত না হয়, আবার কারো জন্য যেন বারডেন না হয়ে যায়।’
