পাবনায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের পর চার তলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুরে কথিত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আলীমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মালেকা খাতুন (৩০) একই উপজেলার আতাইকুলা থানার লোহাগাড়া চমরপুর এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে আলীম পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মহেন্দ্রপুর এলাকার আবদুল আলিমের বাড়ির
একটি মোবাইল ফোন হারালে তার বাড়ির গৃহকর্মী মালেকা খাতুনকে বাড়িতে ডেকে এনে নির্যাতন চালায় আলিমের স্ত্রী লাকি খাতুন ও লাকির মা। নির্যাতনের একপর্যায়ে মালেকাকে তারা ছাদ থেকে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, গৃহকর্মী মালেকা খাতুন ছাদ থেকে পরে মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহ তুলে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে হাসপাতালে না নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরানোর পর অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে আসা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর পুলিশ নিহত মালেকার গ্রামের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলীমের একাধিক প্রতিবেশী জানান, আহত মালেকাকে হাসপাতালে পাঠানোর নাম করে আলীমের পরিবারের লোকজন দ্রুত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলে ও সময়ক্ষেপণ করে। পরে মালেকা মারা গেলে পুলিশকে না জানিয়েই গোপনে গ্রামের বাড়ি চমরপুরে পাঠিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। আলীমের আওয়ামী লীগে কোনো পদ-পদবি নেই। নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আলীমের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।
পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিক আবদুল আলীম পলাতক রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছি। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’
