জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের হাতে এখন কয়েকটি সিনেমা। ‘লকডাউন’ শেষ হলেও কাজে ফেরেননি তিনি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত
কেমন আছেন?
ভালোই আছি। বাসাতেই সময় কাটছে। করোনার কারণে বাইরে বের হই না।
শ্যুটিং তো শুরু হলো। কাজে ফিরবেন কবে?
শ্যুটিং শুরু হয়েছে ঠিক। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কিন্তু আরও ভয়াবহ হচ্ছে। ফলে শিগগিরই কাজে ফেরার ইচ্ছে নেই। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ করার চেষ্টা করব।
অনেক তারকাই পারিশ্রমিক কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন . . .
পারিশ্রমিক কমানোর বিষয়ে এভাবে ঘোষণা দিয়ে কিছু বলতে চাই না। যাদের পারিশ্রমিক সিনেমার জন্য ‘বড় বিষয়’ বা যাদের জন্য ফিল্মের বাজেট অনেক বেশি বেড়ে যায় তারা যদি কমানোর সিদ্ধান্ত নেন তাহলে খুবই ভালো হয়। যদি গল্প পছন্দ হয়, প্রজেক্ট পছন্দ হয় তাহলে বিনা পয়সায় কাজ করতেও তৃপ্তি কাজ করবে। কিন্তু আমাদের তো রুটি রুজির ব্যাপার এটা। তাই উপায় নেই। তবে আমার পারিশ্রমিক ফিল্মের জন্য খুব বেশি একটা ইফেক্ট ফেলে না। আমি সবসময় প্রযোজক-পরিচালকদের দিকটা মাথায় রেখেই কাজ করি। প্রথমেই যখন প্রযোজক-পরিচালকদের সঙ্গে আমার কথা হয় তখন শুরুতেই বলি যে, আমার রেমুনারেশনের জায়গায় যদি অ্যাডজাস্ট করেন তাহলে অ্যাটলিস্ট আপনার একটা ভালো ক্যামেরাম্যান নিতে হবে, টেকনিক্যাল সাইডটা আরও ডেভেলপ করতে হবে- যাকে বেস্ট মনে হয় তাকে নিতে হবে। এরকম কাজ আমি আগেও করেছি। কাজ করতে গিয়ে যদি মনে হয় পারিশ্রমিক কমানো দরকার তখন অবশ্যই কমাই। কিন্তু আগে থেকে এরকম ঘোষণা দেওয়া যে, আমি অত ভাগ টাকা নেব না, এটা আমার কাছে লোক দেখানো মনে হয়। আমার কাছে মনে হয় একটা ইস্যু তৈরির জন্যই তারা এটা বলে, প্রচারণায় আসার জন্য বলে। তাই ঘোষণা দিয়ে পারিশ্রমিক কমানো আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি চলচ্চিত্র একটা পরিবার যারা কাজ করব তারা সবাই আমরা ফ্যামিলি মেম্বার। যখন একটা কাজ নিয়ে তাদের সঙ্গে বসব তখন তারা যদি আমাকে সিলেক্ট করে তখন টাকা-পয়সার বিষয়টা একদম শেষের ব্যাপার। টাকা কখনো প্রথম বিষয় হতে পারে না। কিন্তু আমরা এখন যেভাবে এটাকে প্রচার করছি তাতে মনে হচ্ছে টাকা পয়সাটা হচ্ছে এক নম্বর। আর স্টোরি, স্ক্রিনপ্লে ক্যারেক্টার এগুলো পরে। সবার আগে গল্প, স্ক্রিনপ্লেসহ বাকি সবকিছু ঠিক হওয়ার পরে টাকা পয়সার ব্যাপার আসবে। আমার টিম মেম্বারদের সঙ্গে বসে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে যেটা ভালো হয় সেই কাজটাই আমি করব।
করোনা পরিস্থিতিতে সিনেমা হলবন্ধ। সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে কী ভাবছেন . . .
আমাদের অবকাঠামো এমন না যে এমন একটা পরিস্থিতিতে আমরা হুট করে চাইলেই কোনো একটা পরিবর্তনমূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারব। কারণ আপনি চাইলে সিনেমা হলের সিটের ব্যবধান তিন ফিট বা চার ফিট রাখতে পারবেন না। এটা অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু আমার মনে হয় বেঁচে থাকাটা সবার আগে জরুরি। এজন্য সিনেমা হলগুলো যতদিন না খোলা যায় ততদিন অল্টারনেটিভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সিনেমা চালানো যেতে পারে। সিনেমার মানুষগুলো যেন কাজ করে খেতে পারে। তারা যেন বেঁচে থাকতে পারে। কারণ সিনেমার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তারা অন্য কাজ করে না। এটাই তাদের প্রফেশন। এমন কিছু করা ঠিক হবে না যা তাদের পেটে লাথি মারে। আমার মনে হয় অল্টারনেটিভ উপায়টা আমাদেরই বের করতে হবে। সত্যিকথা হচ্ছে, সিনেমা হল ছাড়াও আপনি দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। তবে একটা ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ মাঠে বসে দেখার যে মজা সেটা কিন্তু টেলিভিশনে পাওয়া যাবে না। সিনেমার ক্ষেত্রেও তাই। আমরা সিনেমা হলকে অবশ্যই মিস করব তবে সিনেমা হল যেন নিজের আঙ্গিক পরিবর্তন করে পরিবর্ধিত হয়ে ফিরে আসে। এটাই এখন চাওয়া।
সিনেমার কনটেন্ট কেমন হওয়া উচিত?
আমাদের সিনেমার কনটেন্টও চেঞ্জ করতে হবে। বিশ্ব সিনেমা একদিকে যাচ্ছে, আমরা যাচ্ছি অন্যদিকে। আমাদেরও বিশ্ব সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুতে হবে। আমরা এখনো দক্ষিণ ভারতের মারামারিটাই দেখাতে চাই। এটা আমাদের বাজেটও অ্যালাউ করে না, এটা আমাদের স্টোরি লাইনও অ্যালাউ করে না। তারপরও অসংখ্য সিনেমা হচ্ছে, ওই টাইপের। আমি মনে করি, এখন সবার জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমা বানানোর দিকে যাওয়া উচিত। আমি প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছি জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমা করার। এখন এটা আরও বেশি করে করার চেষ্টা করব। কারণ জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমাই পারে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে আমূল বদলে দিতে।
