মূলত নাচের প্রতিই ছিল তার যত আকর্ষণ। শৈশবে বড় বোনকে গান শেখাতে বাড়িতে আসতেন ওস্তাদজী। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে বসানো যেতো না তালিমে। অথচ এক সময় তিনি হয়ে গেলেন বিশ্ববিখ্যাত গায়িকা।
কথা হচ্ছিল দীনা লায়লা ও রুনা লায়লাকে নিয়ে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে এই দুই বোনকে। সম্প্রতি ফেইসবুকে ছবিটি শেয়ার করেন এক ভক্ত। সে সূত্রে আবারও উঠে এল পুরোনো গল্প।
বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইমদাদ আলীর শুল্ক বিভাগে বদলির চাকরির সুবাদে দিনা ও রুনার শৈশব কেটেছে পশ্চিম পাকিস্তানে। তাদের মা আমিনা লায়লা গান করতেন। দীনাকে তালিম দিতে বাড়িতে আসতেন ওস্তাদ আব্দুল কাদের পিয়ারে ও ওস্তাদ হাবিব উদ্দিন।
তখন রুনা লায়লার বয়স চার বছর। সারা বাড়ি নেচে বেড়াতেন। ওস্তাদজির কাছে গান শেখানোর জন্য কখনো রুনা লায়লাকে বসানো যায়নি। তবে না বসলেও দীনা লায়লা যখন শিখত, তখন ক্লাসিক্যাল বা সরগমগুলো শুনে শুনে তার মাথায় ঢুকে যেতো। পরে সেগুলো নিজে নিজে গাইতেন।
একবার একটি অনুষ্ঠানে দীনা লায়লার গান গাওয়ার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দীনার গলায় সমস্যা হলো। তখন তার মা বললেন, “রুনাকে দিয়ে গাওয়ান।” আয়োজকরা বললেন, “কী যে বলেন, মাত্র ছয় বছর বয়সের মেয়ে, কী গাইবে!” আমেনা বললেন, “না, সমস্যা হবে না। ও ওর বোনের সঙ্গে বসে বসে এগুলো ভালোই শিখেছে। ও পারবে।” অনিচ্ছা সত্ত্বেও আয়োজকরা রাজি হন।
রুনা লায়লা ওস্তাদজীর সঙ্গে তানপুরা নিয়ে বসেছেন স্টেজে। তানপুরা বাজিয়ে রাগ বাহারে একটা খেয়াল গাইলেন। দর্শক শুনে তো দারুণ খুশি। পুরস্কার হিসেবে পেলেন নগদ টাকা ও ফুলের মালা।
অনেক ঘটনার পর ১৯৬৪ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে লাহোরে ‘জুগনু’ ছবিতে শিশুশিল্পীর জন্য ‘মুন্নি মেরি’ গানের মাধ্যমে প্লেব্যাক জগতে পা রাখেন রুনা লায়লা। গানটি শুনে খুশি হন প্রযোজক। পরে ওই ছবিতেই আরও একটি গান গাওয়ার প্রস্তাব এলো, তবে এটা নায়িকার কণ্ঠের। এরপর একে একে গানের জন্য প্রস্তাব আসতে শুরু করল।
রুনার বড়বোন দীনা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই অকাল মৃত্যুর শোক তিনি কখনো ভুলতে পারেননি। দীনার স্মৃতি রক্ষার্থে তিনি বেশ কয়েকটি দাতব্য সংগীত জলসার আয়োজন করেন এবং সেখান থেকে পাওয়া অর্থ ক্যানসার চিকিৎসার জন্য দান করেন।
