নারায়ণগঞ্জের ৩ এলাকার লকডাউন প্রত্যাহার

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ০৭:৪৬ পিএম

করোনার হটস্পটখ্যাত নারায়ণগঞ্জের তিন এলাকার লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোন পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই ওই এলাকাগুলোর প্রবেশপথের প্রতিবন্ধক সরিয়ে নেয় প্রশাসন। তবে নুতন করে রূপগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নকে লকডাউনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, গত রোববার ভূইগড়ের রুপায়ন মডেল টাউন, নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এবং ফতুল্লার জামতলা এমপি গলি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষনা করে লকডাউন ঘোষনা করে জেলা প্রশাসন।

ওইদিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে  জেলা প্রশাসক মো. জসিমউদ্দিন জানান, তিনটি এলাকাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় লকডাউন দেয়া হয়েছে। উল্লেখিত এলাকা থেকে অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোন ব্যক্তি বাইরে আসতে পারবেন না বা বাইরে থেকে কোন ব্যক্তি উক্ত এলাকায় যেতে পারবেন না। উক্ত এলাকায় কোন গণপরিবহন থামবে না। উক্ত এলাকায় কাঁচা বাজার বন্ধ করে ভ্রাম্যমান বাজার এর ব্যবস্থা করা হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে শুধু কর্মচারীবৃন্দ অন্যান্যদের যাতায়াত আপাতত বন্ধ করা হলো। সবার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক।

লকডাউন তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১০) জুন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন দেওয়া ওই তিন এলাকার প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে এবং পুলিশ পাহারা বসিয়ে মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মঙ্গলবার (৯ জুন) জেলা প্রশাসনের ভার্চুয়াল মিটিং হলে জানতে পারি ওই এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুকিঁপূর্ণ না। তাই ওই তিন এলাকার লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই মিটিংয়ে নারায়ণগঞ্জের কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ বাড়ছে তার মানচিত্র দেখানো হয়। সেই আলোকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নকে লকডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এলাকাটিকে ১৫ থেকে ২১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলক হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, নারায়ণগঞ্জের তিনটি স্পটের লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তিনটি এলাকায় পাইলট হিসেবে লকডাইন করা হয়েছিল। সংক্রমণের হার বিবেচনা করে অন্য এলাকা লকডাউন করা হবে।

রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, রূপগঞ্জ সদরের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মানচিত্রে দেখে যায় এখানে ৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিনই এই ইউনিয়নে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করে বিকাল থেকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নকে লকডাউন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত