আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতার ফোনে ধরা পড়ল 'গজবী ট্রান্সপোর্ট

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ১০:১৫ পিএম

 
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কাভার্ডভ্যান থেকে লুট করার সময় প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের গার্মেন্টস পণ্য (বেবি সুয়েটার) উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার চিনকী আস্তনা রেল স্টেশন এলাকা থেকে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়ভাবে এই লুটের ঘটনা 'গজবী ট্রান্সপোর্ট' নামে পরিচিত। 

তবে পণ্য লুটের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার হোছেনুজ্জামানের ছেলে আনোয়ারুল আজিম বাবু ওরফে তেল বাবু (৫০) ও মো. লতিফের নাম উল্লেখ করে কাভার্ডভ্যানের চালক, হেলপারসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনের নামে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

কাভার্ড ভ্যানে করে পণ্যগুলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে আনোয়ারুল আজিম বাবু, লতিফ, জাহাঙ্গীর ও ফারুক ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন গাড়ি চালকদের সঙ্গে যোগসাজশে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্য, রড, সিমেন্ট, তেল, চিনি, লুট করে আসছে। এদের মধ্যে লতিফের বাড়ি চাঁদপুর। বাকি তিনজন সোনাপাহাড় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাবুর তেলের দোকানের পেছনে উত্তর সোনাপাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাবুর বাড়িত অবস্থান করত।রাত যত গভীর হতো এদের কাজও তত বৃদ্ধি পেত। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করত তারা। 

ওই সূত্রের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলতো এসব। তবে মঙ্গলবার  রাতে আওয়ামী লীগের এক উচ্চ পর্যায়ের নেতার ফোন পেয়ে পুলিশ তৎপর হয় এবং এসব মালামাল উদ্ধার করে। 

জানা গেছে, এদের কারণে এক কিশোরী মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিতে বাধ্য হন গরীব বাবা। কারণ তারা সবসময় ওই কিশোরীকে যৌন হয়রানি করত। এরা নারীপাচার, মাদক ও চোরাই তেলের ব্যবসায়ও জড়িত রয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় এই সিন্ডিকেটের সদস্য রয়েছে। চালকরা পরিবহনে বিভিন্ন পণ্য আনা-নেয়ার সময় এদের কাছে বিক্রি করে মালিকদের বলত চুরি হয়েছে। কখনও কখনও চালকদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে পণ্য লুটও করে তারা। পণ্যের মালিকরা প্রায়শই বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ করে আসছেন, চালান অনুযায়ী পণ্য তারা বুঝে পান না। 

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে খবর আসে চিনকী আস্তানা রেল স্টেশন এলাকায় গাড়ি থেকে পণ্য লুট করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ওসি তদন্ত হেলাল উদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লুটের সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যায়। এ সময় মামলার ১ নম্বর আসামী আনোয়ারুল আজিম বাবুর গোডাউন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করে পুলিশ। 

তিনি জানান, গণনা করে ৩৪৫ কার্টনে ১৫ হাজার ৬৭৫ পিস বেবি সোয়েটার (শীতের জামা) পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ৪৭ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা হবে। উদ্ধার হওয়ার কার্টনগুলোর গায়ে ‘মাসিহাতা সোয়েটার, সাভার, ঢাকা’ লেখা লেভেল রয়েছে। পণ্যগুলো কোন কোম্পানির সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ এই অপকর্মের কথা জানত এমন অভিযোগের উত্তরে জোরারগঞ্জ থানার ওসি মফিজুল ইসলাম বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। তবে জানতে পেরেছি, ওই সিন্ডিকেটের মধ্যে দন্দ্বের কারণে তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং মালামাল উদ্ধার হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত