সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনায় দুটি ওয়েব সিরিজ প্রসঙ্গ। স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও ইউটিউবে মুক্তি পেয়ে রীতিমতো বিতর্ক উসকে দিয়েছে এই ওয়েব সিরিজগুলো। সিরিজ দুটি নির্মাণ করেছেন নাট্য নির্মাতা শিহাব শাহিন ও ওয়াহিদ তারেক। অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, মৌটুসী বিশ্বাস, শ্যামল মওলা, হিল্লোল, ইমি, অর্ষা, তাসনুভা তিশা, আবু হোরায়রা তানভীরসহ অনেক জনপ্রিয় তারকা। ‘আগস্ট ১৪’ ওয়েব সিরিজটি শিহাব শাহিন নির্মাণ করেছেন ঐশী নামের এক টিনএজারের আলোচিত ঘটনা অবলম্বনে। আর ওয়াহিদ তারেক ‘বুমেরাং’ বানিয়েছেন এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার নিয়ে। এতে কটি দৃশ্যে চুমো ও যৌন দৃশ্য রয়েছে। সেই দৃশ্যগুলোর স্ক্রিনশট এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ওয়েব সিরিজ দুটি আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে বেমানান। শোবিজ অঙ্গনের অনেকেও এর বিরুদ্ধে সরব। এই কাজ দুটির সঙ্গে জড়িত অভিনেতাদের সমালোচনা করছেন তারা। কিন্তু যারা এ সিরিজগুলোতে তারা কী ভাবছেন?
আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘এটি নিয়ে বলাটাও রুচির মধ্যে পড়ে না। দুনিয়া কোথায় চলে গেছে আর আমরা কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে আটকে আছি। আর যে কারণে আমার কাজটি নিয়ে এত বাজে কথা হচ্ছে, আমি নিশ্চিত তা ৯৯ ভাগ লোক দেখেননি। শুধু কারও শেয়ার দেওয়া স্ক্রিনশট দেখে তারা হুজুগে গা ভাসাচ্ছেন। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, ধরেন আমাদের দেশের একজন অভিনেত্রীকে হলিউডে সুযোগ দেওয়া হলো। সেই সিনেমায় একটি সাগর পাড়ের দৃশ্য রয়েছে। তাহলে কি তিনি শাড়ি পরে সেই দৃশ্য করবেন? পরিচালক তা মেনে নেবেন? আমার করা কাজটিতে যে দৃশ্যগুলো রয়েছে, সেগুলোতে আমি নেই, কিন্তু তা চরিত্রের প্রয়োজনেই এসেছে। এখানে জাত যাওয়ার কিছু নেই। আমরা তো এ ধরনের কাজ দেশের বাইরে নিয়মিতই দেখছি। তাহলে আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের গল্প বলতে চেয়েছি বলে আপনারা কেন দোষারোপ করছেন? ২০২০ সালে এসেও আমাদের এমন ঠুনকো বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে ভাবিনি!’
অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস বলেন, ‘অনেকে বলছেন, আমাদের নাটক ধ্বংস হয়ে যাবে! তাদের আমি বলছি, এটি নাটক নয়, একটি ওয়েব সিরিজ। শুধু তা-ই নয়, এটি ইউটিউবের মতো ওপেন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার কথাও ছিল না। একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে সাবস্ক্রাইবেশন ফি দিয়ে দেখতে হবে এটা বলা হয়েছিল। তার মানে এটি একটি ১৮+ গল্প। সুতরাং যে দেখবে সে প্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্তবয়স্করা এ ধরনের কাজ নিয়মিতই দেখছেন। আমরা যে কাজটি করেছি তার গল্প যেদিকে গেছে, আমরা সেভাবে শুধু অভিনয়টুকু করেছি। কতটা শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজটা করেছি, তা শ্যুটিং স্পটে থাকলে আপনারা বুঝতেন।’
অর্ষা বলেন, ‘আমি আসলে এ নিয়ে একদম চিন্তিত না। শুধু এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের কাজ আমাদের দেশীয় অ্যাপেও দেড় বছর আগে থেকে হয়ে আসছে। কিন্তু এটি ইউটিউবে চলে আসায় এত আলোচনা হচ্ছে। কদিন পর নতুন একটি টপিক পেলে এটি সবাই ভুলে যাবে। তবে প্রযোজকরা কেন তাদের কমিটমেন্ট রক্ষা না করে এটি পাবলিকলি প্রচার করেছে, তা নিয়ে নিশ্চয়ই পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বলতে পারেন, এটি একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু। দর্শক আর কত দিন গৎবাঁধা গল্প দেখবে? এখন দর্শক খুনটা খুনের মতোই দেখতে চায়, মানুষের সম্পর্কগুলো বাস্তবের মতোই দেখতে চায়। আমরা শুধু সেই বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছি।’
তানভীর বলেন, ‘আমরা কি এমন করেছি যে এত কথা হচ্ছে, সেটিই বুঝতে পারছি না। এখানে যে গল্পটি নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে তা নির্মিত হয়েছে ঐশীর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। সবাই জানেন, তার জীবনে ড্রাগস আর যৌনতা ছিল। তাহলে সেই চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে এই দুটি জিনিস ছাড়া কীভাবে সম্ভব? তেমনি আমার চরিত্রটিও ডিমান্ড করে যে দৃশ্য আমি করেছি। এটা সেসব মানুষের হীনমন্যতা, যারা নেতিবাচক কথা বলছেন। জানি না, তারা কেন নেতিবাচক কথা বলছেন?’
