নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা গ্রাহকদের দুর্দশা আরও বাড়াবে বলে মনে করে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবি।
বৃহস্পতির জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গ্রামীণফোন ও রবির পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
গ্রামীণফোনের পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স প্রধান হোসেন সাদাত বলেন, বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বর্ধিত করায় কভিড-১৯ ও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় মোবাইল সেবা ব্যবহারে গ্রাহকদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।
এ ধরনের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের সম্ভাবনার পথে অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা এই সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার অনুরোধ করছি।
অন্যদিকে, রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, উচ্চ করভারে জর্জরিত মোবাইল সেবার ওপর নতুন করে ৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের দুর্দশা আরও বাড়াবে। করোনা মহামারির বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এখন ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এ ধারাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রসঙ্গত, বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত বছরও একই হারে বাড়ানো হয়েছিল। নতুন কর হারে মোবাইল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ। ফলে মোট করভার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
এর মানে হলো, প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি, এত দিন যা ২২ টাকার মতো ছিল।
এর আগে, জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সূত্র: ইউএনবি।
