প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮.২%

আপডেট : ১২ জুন ২০২০, ০৩:১১ এএম

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। আমদানি-রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনীতির সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতেও উচ্চপ্রবৃদ্ধির আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন তিনি। তিনি জানান, নতুন অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ সময়ে এটি অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

২০২০-২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, বিগত এক দশক ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত হারে বেড়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমকি ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা এশিয়ায় সর্বোচ্চ। আমাদের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা। কিন্তু কভিড-১৯ রোগের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ সময় ধরে চলা লকডাউনের কারণে রপ্তানি কমায় এবং প্রবাসী আয়ে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জিত না হওয়ায় চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হবে মর্মে আশা করছি।’

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস আমরা অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। বিশ্বের সব থিংক ট্যাংক ও গণমাধ্যম আমাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আমাদের অর্থনীতির হিসাব করেছিল ৭ দশমিক ৮ ভাগ। কিন্তু করোনা সারা বিশ্বের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, আগামী বাজেটে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হলে তা হবে পুরোপুরি অবাস্তব। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, বড়জোর ৪-৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, করোনার থাবা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ থাবার প্রভাব বন্ধ করতে না পারলে অর্থনীতিও গতিশীল হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত