সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে দৃশ্যত কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। সমঝোতা বৈঠকের পর পিছু না হটে বরং সীমান্তে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বাড়িয়েছে চীন। জবাবে তাড়াহুড়ো করে ভারতও সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে।
এই সময় জানায়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর চার হাজার কিলোমিটার সীমান্তে ফের সেনা মোতায়েন করেছে চীন।
জবাবে অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে এলএসি বরাবর সেনা সমাবেশ বাড়িয়েছে ভারতও।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, ‘শুধু লাদাখ নয়, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশে সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছে চীন। সেনা ছাড়াও যুদ্ধ সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
সূত্রটি জানায়, মঙ্গলবার থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করলেও, ফের দ্রুত এলএসি বরাবর এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন করেছে ভারতও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, হিমাচল প্রদেশে চীন-ভারত সীমান্তের যে অংশে এর আগে চীনা হেলিকপ্টার দেখা গিয়েছিল, সেখানেও বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে অভিযোগ করেছেন, চীনারা লাদাখে ঢুকে ভারতের জমি দখল করে নিলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি বিষয়টি নিয়ে কোনো কথাই বলছেন না।
জবাবে বিজেপি বলছে, দেশের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ জড়িত আছে, এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে টুইটারে অন্তত প্রশ্নই তোলা যায় না।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, লাদাখ সীমান্তের সংঘাত শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে গড়াবে না- এ ধারণা থেকেই সম্ভবত ভারত বিষয়টি নিয়ে আপাতত মুখ খুলতে চাইছে না।
ভারতের সুপরিচিত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা বুধবার প্রকাশিত তার এক নিবন্ধে দাবি করেন, লাদাখের সীমান্ত সংঘাতে চীন এবার অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়েছে। তারা শুধু প্যাংগং লেকের একটা বড় অংশই দখল করে রাখেনি, পুরো গালওয়ান ভ্যালিটাই কব্জা করে রেখেছে।
গত ৫ মে লাদাখের প্যাংগং লেক এলাকায় চীন ও ভারতের সেনাদের সংঘাত শুরু হয়। হাতাহাতি ও পাথর ছোড়ার খবর আসে।
পরে শনিবার ও বুধবার সামরিক পর্যায়ে দু’দফা বৈঠকের পর লাদাখের তিনটি জায়গা থেকে মুখোমুখি অবস্থান থেকে পিছু হটে দু’দেশের সেনারা। যদিও শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা টেকেনি।
