দেশে দমনের রাজনীতি নিয়ে যা বলেছিলেন নাসিম

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ০১:৩৯ পিএম

পরকালে চলে গেলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ মোহাম্মদ নাসিম। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। সাবেক মন্ত্রী নাসিমের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের দেশের রাজনীতিক পরিমণ্ডলে।

বিরোধী শক্তি দ্বারা নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা নাসিমের নাম সামনের সারিতে। কিন্তু কখনো দমে যাননি ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান।

বাংলাদেশে দমনের রাজনীতি কবে থেকে শুরু বা কোন সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে? এসব প্রসঙ্গ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলেকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। কিছুটা সংক্ষেপিত করে তোলে ধরা হলো এখানে-

## বাংলাদেশে দমন পীড়নের রাজনীতি কবে থেকে শুরু?

সত্যি কথা বলতে গেলে বলতে হবে, এটা জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময় সামরিক আইন জারি করে বিরাজ নীতিকরণের কাজটা উনিই তো করে গেছেন। ওই সময় সামরিক আইনের ফলে সন্ত্রাস, ছাত্রদের দিয়ে গুন্ডামি করানো শুরু হয়, যা এরশাদের সময়েও অব্যাহত ছিল।

## এরশাদ শাসনামলে এই ধরনের ঘটনা কেমন ছিল?

সব আমলেই এটা বেশি ছিল। এটার ভুক্তভোগী আমরা, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। তখন যে পরিমাণ দমন পীড়ন হয়েছে সেটা কল্পনা করা যায় না। রাজনীতিকদের দমন করার জন্য এরশাদ-খালেদা জিয়া সব ধরনের পদক্ষেপই নিয়েছেন। বলতে গেলে এখনো সেটার ছিটেফোঁটা রয়ে গেছে।

## বর্তমান সরকারের সময় দমন পীড়ন বেড়ে গেছে বলে বলা হচ্ছে?

এখন কিন্তু এমন ঘটনা ঘটলে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে ঘটনাগুলো ঘটে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকার যখনই জানতে পারে তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছে, অনেককে বহিষ্কার করা হচ্ছে। আমাদের সরকারই কোনো ঘটনা ঘটলে দলীয় চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

## বিরোধী মতাদর্শের মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন?

এটা ঠিক না৷ বরং আমরা বেশি নির্যাতিত হয়েছি। আমাদের নেত্রী কারারুদ্ধ হয়েছেন৷ খালেদা জিয়ার সময় নির্যাতনের সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অনেক নেতা, এমপি খুন হয়েছেন। প্রত্যেক নেতাই নির্যাতিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাখা হতো। রাজনৈতিকভাবে কাউকে দমন করছি, এটা কেউ বলতে পারবে না।

## আপনার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দমনের রাজনীতি হয়েছে কোন আমলে?

বলতে হলে, সবচেয়ে বেশি দমনের রাজনীতি হয়েছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে। এরশাদের আমলে হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি হয়েছে খালেদা জিয়ার আমলে। তখন তো আমাদের নেত্রীসহ সব নেতাকে মারার জন্য গ্রেনেড হামলা হয়েছে৷ তখন তো আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।

## দমনের রাজনীতির শেষ পরিণতি কি?

দমনের রাজনীতি করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। এখন গণতন্ত্র আছে, সংসদ আছে৷ কথা বলার অধিকার পরিপূর্ণভাবে আছে। মিডিয়ার স্বাধীনতা আছে। এখন ইচ্ছেমতো লেখা যায়৷ আমরা প্রত্যেকটা ঘটনার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

## কেউই তো নিপীড়ন করে টিকে থাকতে পারেনি। তারপরও কেন এই নিপীড়ন?

ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে চায়। তারা তো প্রশ্রয় পাচ্ছে না। দেখেছেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বাড়াবাড়ি অনেকেই করতে চায়। এটা তো অসম্ভব কিছু না। এখনে অনেক বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

## এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কি?

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে ততই উত্তরণ ঘটবে। অন্য দেশেও এটা হয়। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সব সময়ই পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

## বর্তমান সরকারের সময়ে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলোতেই কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

সবগুলোতেই নেওয়া হয়েছে। বুয়েটের ঘটনা দেখেন। নুরের ওপর হামলার ঘটনা দেখেন। বিলম্ব হতে পারে কিন্তু সব ঘটনাতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

## এত ব্যবস্থা নেওয়ার পর কেন ছাত্রনেতাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?

এটা আমাদের জন্যও দুশ্চিন্তার বিষয়। এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেন হচ্ছে? তবে ওপর পর্যায়ে এখন আর নেই, নিচের দিকে হয়ত আছে। আমার মনে হয় ধীরে ধীরে এটা কমে যাবে। যারা এটা করছে তারা ছাত্রলীগের নামধারী। তারা ছাত্রলীগ করে কি-না সন্দেহ আছে।

## আরও বেশি মনিটরিং দরকার কি-না?

মনিটরিং না হলে ব্যবস্থা নিচ্ছি কিভাবে। সরকার প্রধানের এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা আছে৷ আশা করি কমে যাবে। না কমলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত