চীনকে টপকাল বাংলাদেশ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ০৫:১৩ এএম

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের দিক থেকে গতকাল করোনার উৎপত্তিস্থল চীনকেও ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার দেশে করোনাকালের ৯৮তম দিন শেষে শনাক্তকৃত সর্বমোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৭৯। আর ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত চীনে সর্বমোট রোগীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৫। এদিন আক্রান্তের সংখ্যায় বিশে^ ১৮তম অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। আর চীন নেমে গেছে ১৯তম স্থানে। চীন থেকে সারা বিশে^ করোনা ছড়ালেও দেশটিতে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যেখানে বাংলাদেশে তিন হাজারের কাছাকাছি রোগী শনাক্ত হয়েছে, সেখানে একই সময়ে চীনে রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১১ জন। করোনাভাইরাসের একসময়ের হটস্পট বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনকেও আক্রান্তের দিক থেকে আরও আগেই টপকেছে বাংলাদেশ।

তবে মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো চীনসহ উল্লিখিত দেশগুলো থেকে অনেক পেছনে রয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১১ শতাধিক মৃত্যুর বিপরীতে চীনে মৃত্যুবরণ করেছে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। তবে বর্তমানে চীনে দৈনিক মৃত্যু প্রায় শূন্যে চলে এসেছে। গত ২৭ দিনে দেশটিতে কেউ মারা যায়নি। অথচ এক মাস ধরে বাংলাদেশে মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি কেবলই বাড়ছে এবং প্রায় ৭৫ শতাংশ মৃত্যুই এই সময়ে হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়েছে আরও পৌনে ৬০০ মানুষ। এদিন এযাবৎ সর্বোচ্চ সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তবে আশার দিক হলো, গতকাল রোগী শনাক্তের হার ছিল অনেকটাই কম। এদিন প্রায় ১৭ শতাংশ করে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ২০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা  থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৫৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ৩৫টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৮টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে করোনায় আরও ৪৪ জন মৃত্যুবরণ করেছে এবং সুস্থ হয়েছে ৫৭৮ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬০টি নমুনা পরীক্ষায় মোট ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১ হাজার ১৩৯ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ৮২৮ জন। শনাক্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সর্বশেষ মৃতদের বিষয়ে বলা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ ও মহিলা ১১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯, চট্টগ্রামে ১৩, রাজশাহীতে ৪, বরিশালে ৪, সিলেটে ২, রংপুরে ১ ও খুলনায় ১ জন। হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে ২৭, বাড়িতে ১৪ জন এবং ৩ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মৃতদের বয়স ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ৬ জন, ৪১-৫০ বছরের ৫ জন, ৫১-৬০ বছরের ১১ জন, ৬১-৭০ বছরের ১১ জন, ৭১-৮০ বছরের ৭ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ৩ জন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৯৬ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে মোট ৯ হাজার ৩৪০ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৪১৪ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছে মোট ৬০ হাজার ৭৮৫ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৩৭টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছে ১ হাজার ৬৭৮ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

সচেতনতা ছাড়া সংক্রমণ নিম্নমুখী করা যাবে না : এদিন বুলেটিনের শুরুতে ডা. নাসিমা বলেন, আক্রান্তের তালিকা ইতিমধ্যেই বেশ দীর্ঘ। মন্ত্রী, সাংসদ, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ বাহিনী, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যান্য সেবাদানকারীরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে কাজ করলেও এই সংখ্যা এবং পরিসংখ্যানকে নিম্নমুখী করা যাবে না, যদি আমরা জনগণ সচেতন না হই। আপনি, আমি একটি সংখ্যা বা পরিসংখ্যানে স্থান পেলে গবেষণার কাজে হয়তো সহায়তা হবে, কিন্তু আপনার, আমার পরিবারের আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীরা যে কষ্ট এবং দুঃখের মধ্যে পড়বে, সেটা বিবেচনা করে সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, করোনা মোকাবিলায় সচেতন হোন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। মাস্ক পরুন, বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত