মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের দেওধা গ্রামে গত ২২ মে দুই শিশুকে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে পেটানোর অভিযোগে গত ৫ জুন ইউপি সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টায় পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় ওই শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে মামলার পর গত ৭ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এরপর গত শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুদের চিকিৎসায় কিছু আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন।
গতকাল নির্যাতিত শিশু সুমনের মা শরিফা খাতুন জানান, থানায় মামলার ৭ দিন গত হলেও দোষীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীর বড় ভাই মোতালেব আলী তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে তিনি রাজি হননি। শেষে তাকে ঘায়েল করতে ছেলে সুমন (১১) ও তার চাচাতো দেবরের ছেলে কামরুল ইসলামকে (১২) গত ২২ মে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করে গ্রামে সালিশ বৈঠক আয়োজন করে। এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে মোতালেব আলী ও কয়েকজন আমার ছেলে ও কামরুলের হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটায়। এতে দুই শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সেই চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে নির্যাতনকারীরা। কিন্তু তাদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে টাকার বদলে বাড়ি থেকে একটি গরু নিয়ে যায় তারা। এসব অভিযোগে গত ৫ জুন পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন শরিফা খাতুন।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ওই দুই শিশুর ওপর বর্বর নির্যাতন চলায় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। শিশু দুটো চিৎকার করে প্রাণভিক্ষা চাইলেও তাদের পেটানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, আব্দুল লতিফের একটি মোবাইল ফোন চুরি করে ওই দুই শিশু। এর আগেও তারা নানা রকম অপরাধ করে। পারিবারিকভাবে তাদের শাসন করা হচ্ছিল। তাছাড়া যার মোবাইল ফোন চুরি হয় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারপিট করে, আমি না। শরিফা আমার ও মোতালেবসহ একই পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে।
সেনগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেম্বার জহিরুল ইসলামসহ তার সহযোগীরা মিলে দুই শিশুকে হাত-পা বেঁধে যেভাবে নির্যাতন করেছেন এটি বড় ধরনের অপরাধ।
পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিরা কেউ এলাকায় নেই, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে, অন্য অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
