বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, আদালতের মতো করোনা চিকিৎসায়ও দেশে দ্বৈতনীতি চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে মামলায় দুই বছর জেল খেটেছেন, একই মামলায় সরকারদলীয় মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একইভাবে সরকারদলীয় মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা মুহূর্তে করোনা টেস্ট ও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন। অথচ সরকারের বাইরে যারা তারা একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আদালতে বিএনপি নেতাদের জন্য এক রায় আর সরকারদলীয় নেতাদের জন্য ভিন্ন রায়। যে মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটলেন, একই মামলায় মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা বাইরে রয়েছেন। এখন করোনা চিকিৎসায়ও একই নিয়ম অনুসরণ করছে সরকার। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানতে পারলাম চট্টগ্রামে প্রশাসনের তালিকা করা ২০টি বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৫৮৮টি শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে অর্ধেকই খালি। ১২১টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ৮৬টিই খালি রয়েছে।
বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদ বলেন, সিট খালি থাকলেও রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে না। সব হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া হলেও অধিদপ্তরের কে দায়িত্বে তা বোঝা যাচ্ছে না। অদৃশ্য শক্তি এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের হাসপাতালগুলো কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য দখলে রাখা হয়েছে। এখন হাসপাতালগুলোতে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তার ওপর এ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংস্থার জন্য একপ্রকার দখলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, খোদ চিকিৎসকরাই পাচ্ছেন না আইসিইউ বেড। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈনউদ্দিন নিজের কর্মস্থলেই আইসিইউ পাননি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হলে গত ১৫ এপ্রিল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন একই কারণে মারা গেছেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) হেড অব অ্যাকাউন্ট মো. মনিরুজ্জামান।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে চিকিৎসা বৈষম্য ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শুধুই তার দলের মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, নেতা ও ভিআইপিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন। তাদের জন্য দ্রুততার সঙ্গে সিএমএইচ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার, আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করছেন। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষগুলো চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তাতেই মারা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের কোনো খবর নিচ্ছেন না। তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে শুধুই ‘ভিআইপি লাইভস ম্যাটার’। গরিব মানুষের জীবন উপেক্ষিত।
