জীবিকার সংকটে রাতে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে মানুষ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ০৫:৫৯ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে কর্ম হারিয়ে কিংবা জীবিকার সংকটে রাতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক বা অন্যান্য যানে চেপে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে মানুষ। এর মধ্যে বিভিন্ন শিল্প কারখানার ছাঁটাই হওয়া কর্মীই বেশি। তবে অনেকে আয় কমে যাওয়ার কারণেও শহরাঞ্চল ছাড়ছেন। অনেকটা নিঃস্ব হয়েই তাদের অনেকে গ্রামে ফিরছে। এ অবস্থায় ভাড়াটিয়া সংকটে পড়েছে অনেক বাড়িওয়ালা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর থেকে আয় কমে, কর্ম হারিয়ে শহরাঞ্চলে টিকে থাকার মতো অবস্থা নেই অনেকের। নি¤œ-মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষের অবস্থা খারাপ। হতদরিদ্ররা হয়ে পড়েছে আরও অসহায়। জীবিকার এমন সংকট দেখা দেওয়ায় শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। এ অবস্থায় নগরীর অনেক বাড়িতে ভাড়াটিয়া সংকট দেখা দিয়েছে। সেজন্য এখন বাড়িতে বাড়িতে ঝুলছে বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন।

অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পনগরী হওয়ায় কর্মসংস্থান বা ভাগ্যবদলের আশায় অনেকেই নারায়ণগঞ্জমুখী হয়েছে। তারা উচ্চ ভাড়া দিয়েও এ অঞ্চলে বছরের পর বছর থেকেছে। তবে করোনা বদলে দিয়েছে মানুষের জীবিকার সুযোগ। আয় কমে, কাজ হারিয়ে নি¤œমধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। হতদরিদ্র আরও দরিদ্র হয়েছে। এ অবস্থায় আগের মতো ব্যয় সক্ষমতা হারিয়েছে তারা। বাসা-ঘরের ভাড়ার ভার বইতে পারছে না তারা। ফলে ছেড়ে দিচ্ছে বাসা। জিনিসপত্র গুছিয়ে রাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে।

করোনা পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরের মাদ্রাসা, গাইবান্ধা বাজার, এনায়েতনগরের মাসদাইর, ইসদাইর, গাবতলী, টাগারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে গেছে, নি¤œ আয়ের মানুষ গার্মেন্টস শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর গ্রামে চলে যাচ্ছে। ফতুল্লার টাগারপাড়ে গিয়ে দেখা হয় সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেওয়া সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তারা ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘ভাই নারায়ণগঞ্জে থেকে কী করব। প্রোডাকশনের কাজ করি ড্যানিসন গার্মেন্টসে। গার্মেন্টসে এখন কাজ কম।’ 

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ বাড়িতেই দু-একটা করে ফ্ল্যাট ফাঁকা হয়েছে। ভাড়াটিয়া চেয়ে ‘টু লেট’ লেখা বিজ্ঞাপন সাঁটানো হয়েছে। আর এরই মধ্যে বাড়ির মালিককে বাসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন অনেক ভাড়াটিয়া।

এ ব্যাপারে  বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ফারুক বিন ইফসুফ পাপ্পু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পথে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ করছে। ফলে অনেকেই কর্ম হারিয়েছেন, আরও অনেকেই হারানোর আশঙ্কায় হতাশ হয়ে নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত