মিরপুরে খুব শিগগির ফেরা নয়

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ০৭:২৭ এএম

ঘরের মধ্যে ফের ট্রেডমিলে ছুটে চলছেন মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক যেন সেই ছুটে চলাকে অনন্তকালের জন্য দেখতে পাচ্ছেন। যেন কোনো শেষ নেই। অন্তত শিগগির তো নয়ই। গতকাল ঠিক দুপুরে মাহমুদউল্লাহার সেই পৌনে এক মিনিটের ট্রেডমিলে ছুটে চলার ভিডিওর ক্যাপশন, ‘চলছে, চলবে ইনশাআল্লাহ।’

করোনাভাইরাস সেই মার্চ থেকে এমন একটা পরিস্থিতিতে জাতীয় ক্রিকেট দলকেও ফেলে দিয়েছে যেখানে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো আশা দেখা দিয়েও উধাও হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে ক্রিকেটারদের মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে একক অনুশীলন করতে দেওয়ার একটা তোড়জোড় তৈরি হয়েছিল। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান, বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী একযোগে জানিয়েছিলেন, কয়েকদিনের মধ্যে ক্রিকেটাররা মিরপুর স্টেডিয়ামে একক অনুশীলন করতে পারবেন। সেখানকার ইনডোর বা অ্যাকাডেমি মাঠও ছিল আলোচনায়। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেওয়ার ভাবনায় ৩৭ ক্রিকেটারের এক তালিকাও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু দিনদুয়েক আগে মিরপুরকে করোনাভাইরাসের কারণে রেড জোনের আওতায় ফেলা হয়েছে। সুতরাং এখন বলতে হচ্ছে, খুব শিগগির মিরপুরে অনুশীলনে ফেরার সুযোগ ক্রিকেটারদের নেই।

সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী ছিলেন মাঠে ফিরতে মুশফিকুর রহিম। সেই তিনিও তার রুটিনের দৌড়ের পাটটা নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছেন পরিস্থিতি মেনে। বনানীর বাসভবনের সামনের রাস্তাটা চমৎকার। মাঝখানের লাইন ধরে দৌড়ানোর রুটিনের দিনগুলোর সকালবেলায় ওখানে নেমে আসছেন বিশ্বের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার মুশফিক। ট্রেডমিলে ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ মানসপটে নিয়ে ছুটতে থাকা মুশফিক এখন ওই পিচঢালা পথে দৌড়াচ্ছেন।

কাছাকাছি মাঠে নেমে এসেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সাতক্ষীরায় সৌম্য সরকার কাছের মাঠে রোজ অনুশীলন করতেন। সেখানে মোস্তাফিজুর রহমানও প্রায় একই রুটিনে চলে এসেছেন ফিটনেস ঠিক রাখতে। তাসকিন আহমেদ তাদের অ্যাপার্টমেন্টের লম্বা গ্যারেজের এক প্রান্তে নেট টানিয়ে নিয়েছেন। আজকাল আরেক প্রান্ত থেকে ছুটে ওই প্রান্তে বল ছুড়ছেন।

এভাবেই যে যার বিকল্প খুঁজে নিচ্ছেন। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা পেরুতে এখনো কয়েক মাস বাকি। করোনাভাইরাস তাকে এই শিক্ষা দিয়েছে যে আগামীকাল বেঁচে থাকারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই অত দূরে না ভেবে দুই কন্যা আর স্ত্রীর সঙ্গে ঘরের বাউন্ডারিতে জীবন উপভোগ করা ভালো। খাচ্ছেন, দাচ্ছেন পছন্দের খাবার। চলে যাচ্ছে দিন।

আসলেই সবার দিন চলে যাচ্ছে। কারও আতঙ্কে, কারও সামান্য উপভোগে। আর ক্রিকেটারদের কেবল মাঠে ফিরেই খুব দ্রুত খেলার জন্য ফিট হয়ে ওঠার কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই ফিটনেস নিয়ে যত চিন্তা। মিরপুরে মাঠের অনুশীলনে বা ক্যাম্পে ফেরার কোনো আশা সহসা দেখাই যাচ্ছে না। তাই নিজের মতো করে নিজেকে ঠিক রাখতে যা করার তাই করে যাচ্ছেন জাতীয় তারকারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত