বাংলাদেশে ৮মার্চ প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হলেও ঝালকাঠিতে করোনা রোগী সনাক্ত হয় ১১ এপ্রিল। এরপর শুরু থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৫০দিনে জেলায় করোনা রোগী ছিল মোট ৪৯ জন।
গত ০১ জুন থেকে বুধবার ১৭জুন এই ১৭ দিনে জেলায় রোগী হয়েছে দ্বিগুন। দুুদিন আগে জেলায় রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৭ জন। নতুন করে চার জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে বুধবার রাতে। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০১ এ। জানিয়েছে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়।
বুধবার পর্যন্ত জেলায় কভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৩জন হোম আইসোলেসনে থেকে সুস্থ্য হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে জেলার রাজাপুর উপজেলায় ২৫জন, কাঠালিয়া উপজেলায় ১৪জন, নলছিটি উপজেলায় ২৮জন, ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৩৪জন। এছাড়াও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কাঠালিয়া উপজেলায় একজন ও নলছিটি উপজেলায় তিন জনসহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জেলায় উল্লেখযোগ্য আক্রান্ত ব্যাক্তিরা হলেন, ঝালকাঠি সরকারি কলেজের প্রাভাষক একজন , বিশিষ্ট ঠিকাদার একজন, রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী ও মৎস্য কর্মকর্তা , নলছিটির উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক নলছিটি মৎস্য কর্মকর্তা ও ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই সুপারভাইজার ।
সবশেষ গত সোমবার রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেলের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। যিনি করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাব শুরু হবার পর থেকে প্রথম সারিতে থেকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়েছেন।
ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাক্তার আবুয়াল হাসান বলেন, ঈদের আগ পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কম ছিল। ঈদের আগে গণ পরিবহন ছাড়ার কারনে জেলায় বাহির থেকে অনেক লোক এসেছে। যাদের মাধ্যমে জেলায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তার পরেও জেলা সিভিল সার্জন কর্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা খুবই সচেতন আছে। তারা সারা জেলাতেই খোজ খবর রাখছে। আক্রান্ত এলাকা থেকে যাতে করোনা ভাইরাস ছড়াতে না পারে সেজন্য আমরা আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করে দিচ্ছি।
