নিজস্ব চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় করোনা দুর্যোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা নিতে চায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। বিষয়টি জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর বিএসসির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তবে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাইরে কাউকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বন্দর কর্র্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএসসির চিঠি আমরা পেয়েছি। বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া যাবে কি না তা বন্দর পরিচালনা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের ওপর নির্ভরশীল অন্তত ২০ হাজার মানুষ এখন বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন।’
বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। পরিবারের সদস্যসহ তাদের ওপর নির্ভরশীল আরও অন্তত ২ হাজার মানুষ। কিন্তু এদের চিকিৎসা সেবায় বিএসসির নিজস্ব কোনো হাসপাতাল নেই। নির্ধারিত কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। করোনা মহামারীর সময় সেখানে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ পরিচালিত বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা পেতে চাইছেন তারা।
এ বিষয়ে বিএসসির মহাব্যবস্থাপকের দপ্তর থেকে বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে চিকিৎসা সুবিধা পেলে ব্যয়ভার বহনে সম্মতির কথা জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে বন্দর চেয়ারম্যানের পিএসহ বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ৫০ শয্যার করোনা জোন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই সক্ষমতা নিয়ে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তার ওপর অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসা সুবিধা দিতে হলে বন্দরের লোকজনই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আরও কয়েকটি সংস্থা রয়েছে, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় তারাও একই সুবিধা চেয়ে বসলে সংকট বাড়বে বলে জানান তারা।
