সব ছাত্রছত্রীকেই পাঠ্যবই পড়তে হয়। কিন্তু এই পড়াও অনেক কার্যকর পদ্ধতিতে পড়তে পারো। তোমাদের জন্য কিছু কার্যকর পদ্ধতি আলোচনা করা হলো। জানালেন ফারাহ বিলকিস
প্রস্তুতিমূলক পাঠ
বইয়ের নাম, সূচিপত্র, কোন অধ্যায়ে কী আলোচিত হয়েছে, প্রবন্ধগুলোর শিরোনাম ও উপশিরোনামগুলো কী কী, ব্যবহারিক টিপস, পরিশিষ্ট-এসব বিষয়ে হালকাভাবে নজর বুলিয়ে নিতে হবে। এতে তোমার মনে পুরো বইটির বিষয়-কাঠামোর ওপর একটি মাইন্ড-ম্যাপ তৈরি হবে। যা পরবর্তী সময়ে তোমার পড়ায় সুবিধা হবে।
বিস্তারিত পাঠ
এবার সম্পূর্ণ বা সবিস্তারে পড়তে হবে। এই ধাপে কভার-টু-কভার, লাইন-বাই-লাইন ধরে পড়বে তুমি। বুঝে বুঝে পড়বে। প্রতিটি পয়েন্ট মনে রাখার চেষ্টা করবে। প্রতিটি তথ্য ফিল্টারিং করো-বুঝতে পারছো কী পারছো না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাইলাইট করো। বইয়ের সারবস্তু কী, তা বোঝার চেষ্টা করো। এবং পরীক্ষার জন্য কোন বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, সেদিকে মনোনিবেশ দাও। এভাবে পুরো বইটি মনোযোগ দিয়ে সবিস্তারে পড়বে তুমি।
নিরীক্ষণমূলক পাঠ
পর্যালোচনামূলক ভাবে তোমাকে পড়তে হবে। তোমার নোট করে রাখা বিষয়গুলোর কোনো পয়েন্টে একমত হলে কেন একমত হয়েছো কিংবা দ্বিমত হলে কেন হচ্ছো-এসব নিয়ে পর্যালোচনা করে পড়ো। হাইলাইট করে রাখা বিভিন্ন অংশ আবারও বুঝে বুঝে পড়ো। এর সঙ্গে মস্তিষ্কে জমে থাকা অন্যান্য তথ্যের যোগসূত্র তৈরি করো। বইয়ে কোন বিষয়গুলো তোমার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সেসব বিষয় নোট খাতায় সুন্দর করে লিখে রেখো। পড়া মনে রাখতে নিরীক্ষামূলক পড়া খুব কার্যকর।
সম্পূরক পাঠ
তোমরা বলতে পারো এই ধাপটাকে সাধারণ পড়া। মোটামুটিভাবে পুরো বইটা আবার এক নজর পড়ে নাও। এটা অনেকটা স্ক্যানিং বা ভিজুয়ালাইজিং-এর মতো। এতে করে তিনটি ধাপের পাঠের মধ্যে একটা সংযোগ তৈরি করবে। চতুর্থবার পড়ার কারণে পড়ার বিষয়গুলো মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে জায়গা করতে সাহায্য করবে। এই ধাপটিতে তুমি খুব কম সময়ে পড়ার বিষয়টি পড়ে মনে রাখতে পারবে। পরবর্তী সময়ে আর ভুলে যাওয়ার শঙ্কা থাকবে না। তাহলে এইভাবে একবার পড়ে দেখতে পারো।
