যানজট নিরসনে আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। মহাসড়কটির মান ও প্রশস্ততা উন্নীতকরণের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা সাশ্রয়ী ও কার্যকরী হবে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ প্রকল্পের ওপর মূল্যায়ন কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়েছে। সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বেশকিছু কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পটিতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর।
পিইসি সভায় বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় ১৩২ দশমিক ৩৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৬৯৩ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যয় প্রাক্কলন এবং এত বেশি জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে।
প্রকল্পের আওতায় কাগমারী থেকে নগরজলফই পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫০ কিমি দীর্ঘ একটি বাইপাস নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। টাঙ্গাইল বাইপাস থাকার পরও এ বাইপাস নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলা হয়। প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ (৮৬ মিটার), ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রস্তাবিত সেতুগুলো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাসহ নকশার বিষয়ে কমিশনকে জানাতে হবে। এছাড়া ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি কালভার্ট ও ৬৬৯ কোটি ৬০ টাকা ব্যয়ে সাতটি কালভার্ট সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৬৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৭৪ কিমি সড়কে পেভমেন্ট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাসহ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এর ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে শুধু সড়ক নির্মাণ নয়, ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পুনর্নির্মাণ ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তা আনবে। প্রকল্প এলাকায় নতুন প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নসহ এলাকার পশ্চাৎপদ জনগণের সার্বিক আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত বছর ৩০ মে প্রথম পিইসি সভা হয়। সভায় দুটি জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ বিবেচনায় বরঙ্গাইল হতে দৌলতপুর পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৩৩ কিমি সড়কাংশ আলোচ্য প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ও তদানুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) পটভূমিতে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত সড়ক অংশটির গুরুত্ব উল্লেখ করতে বলা হয়েছিল।
ডিপিপিতে বলা হয়েছে, সড়কটির কাজ বাস্তবায়ন হলে পুরো টাঙ্গাইল শহর যানজটমুক্ত হবে এবং নির্মাণাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে। কাগমারী-নগরজলফই মহাসড়কটির ৫ দশমিক ৫০ কিমি অংশে প্রশস্ততা ১০ দশমিক ৩০ কিমিতে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের উল্লিখিত ৫ দশমিক ৫০ কিমি অংশ ভবিষ্যতে চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে ১২০ ফুট পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সড়কটি মানিকগঞ্জের বরঙ্গাইল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগরজলফই পর্যন্ত ৫৯ কিমি দীর্ঘ। এর মধ্যে ৬ কিমিতে ১০ হাজার ৩৪৩ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আওতায় ১ কিমি অ্যাপ্রোচ সড়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রস্তাবিত প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৫০ কিমি, যার মধ্যে টাঙ্গাইল অংশের দৈর্ঘ্য ৪৭ ও মানিকগঞ্জ অংশের দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৫০ কিমি। উল্লিখিত মহাসড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৩ জেলার সঙ্গে ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছে। বর্তমানে মহাসড়কটির প্রশস্ততা ৫ দশমিক ৫০ মিটার, যা বেশি যানবাহন চলাচলের ভার বহনে অক্ষম। এছাড়াও মহাসড়কটিতে রয়েছে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, সরু ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্ট। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মহাসড়কের প্রশস্ততা বাড়বে। ঝুঁকিপূর্ণ সরু এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু নতুন করে নির্মাণ হবে।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ হবে ১৩২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়, সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, ১৬ দশমিক ৬৭ কিমি সড়ক নির্মাণ, ২৩ দশমিক ০৬ কিমি পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ।
