ভুটানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠকে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে পিটিএ সম্পাদনের জন্য পিটিএ টেক্সটসহ অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। উভয়পক্ষ পিটিএ সম্পাদনের জন্য ঐকমত্যে পৌঁছায়। বাংলাদেশ ও ভুটানের প্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বৈঠকে অংশ নেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। উভয়পক্ষের বাণিজ্যমন্ত্রী এ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এর ফলে দেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে এবং ভুটানের ৩৪টি পণ্য এ দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। তবে পর্যায়ক্রমে এ পণ্য সংখ্যা আলোচনার মাধ্যমে বাড়ানো হবে। ভুটান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আমদানি করা গেলে দেশের জন্য নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় কমবে। এটি নির্মাণ খাত উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য স্বল্পমূল্যে কাঁচামাল আমদানি করা সহজ হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ আলোচনা শেষ হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এটি হবে বাংলাদেশের জন্য প্রথম ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর। ২০১২-১৩ অর্থবছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল আড়াই কোটি ডলার; যা ক্রমান্বয় বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয় । বাংলাদেশ থেকে ভুটানে মূলত তৈরি পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, প্লাস্টিক, ওষুধ, গৃহসজ্জা সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী রপ্তানি হয়। ভুটান থেকে বাংলাদেশ সবজি ও ফলমূল, খনিজদ্রব্য, নির্মাণসামগ্রী, বোল্ডার পাথর, পাল্প, রাসায়নিক আমদানি করে।
