সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ : টিআইবি

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ০৫:৩২ এএম

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত ডিএমপি কমিশনারের চিঠি ফাঁস হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাংবাদিকদের তলবের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাংবাদিক তার সংবাদের উৎস প্রকাশ করবেন না, এটাই প্রতিষ্ঠিত নীতি। এখন যদি সাংবাদিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়, তাকে কে তথ্য সরবরাহ করেছেন, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ঘটনার ব্যাপারে কেউ আর মুখ খুলতে সাহস করবে না। যা কার্যত স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সংবাদকর্মীদের চাপে রাখার নীতি আত্মঘাতী, সার্বিকভাবে জনস্বার্থবিরোধী। এর ফলে পুলিশের মতো একটি পেশাদার বাহিনী আদৌ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আগ্রহী কি-না সেই প্রশ্ন উঠতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে গণমাধ্যমকর্মীদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার লিখিতভাবে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। স্বাভাবিক বিবেচনায় এখন এটাই পুলিশ বাহিনীর মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে মনে করি। আলোচিত সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ এবং গ্রহণযোগ্য তদন্তকে প্রাধান্য দিয়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী সেই পথে না গিয়ে বরং চিঠি কী করে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেল তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদেরই সম্মানহানি হচ্ছে, তাদের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করে জানা সম্ভব চিঠিটা কে ফাঁস করেছেন। অথচ এই পুরো প্রক্রিয়ায় যেভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর দৃশ্যমান একটা চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তাতে আমরা যারা দেশের সাধারণ নাগরিক তারা আতঙ্কিত বোধ করছি।’

ফাঁস হওয়া চিঠিটির সত্যতা পুলিশ বাহিনী অস্বীকার করেনি উল্লেখ করে এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘চিঠিটি সত্য হলে যেকোনো একপক্ষ অবশ্যই দায়ী। অথচ পুলিশ কমিশনারের চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে শুধু বদলি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতির জন্য সাজা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। উল্টো পুলিশ বাহিনী এখন সাংবাদিকদের কার্যত হয়রানি করছে। এমন বাস্তবতায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে দুদকের দ্রুত তদন্ত শুরু করা উচিত, যাতে এই ধরনের দুর্নীতির ব্যাপকতা কতটুকু এবং কারা এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত তা চিহ্নিত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত