প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কোনো শতভাগ কার্যকর টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক বেশ কিছু টিকার ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়েছে। ক্ষমতাধর দেশগুলো ওই টিকা কেনার ক্ষেত্রে এগিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ করোনার টিকা আবিষ্কৃত হলেও ক্ষমতাধর দেশগুলোর অনেক পরে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলো ওই টিকা পেতে পারে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস, রেড ক্রিসেন্ট ও অন্য অনেক সংগঠন জানায় করোনাভাইরাসের টিকাপ্রাপ্তি পৃথিবীর সব মানুষের জন্য নৈতিক অপরিহার্য বিষয়। করোনার টিকা নিয়ে কৌশলগত কোনো সমস্যা হলে এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে বলেও সংগঠনগুলো সতর্ক করে দেয়। ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক উয়ান চিয়ং হু বলেন, ‘সবাই টিকা পাচ্ছে এমন সুন্দর ভাবনাই আমাদের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এজন্য কোনো রোডম্যাপ এখনো গঠিত হয়নি। বিশ্ববাসীর কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হলে আমাদের অনেক বাধা পেরোতে হবে।’ অতীত অভিজ্ঞতা বলে, কোম্পানিগুলোকে টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে পদে পদে প্যাটেন্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে। একেবারে জৈবিক উপকরণ থেকে শুরু করে কত ডোজ কীভাবে দেওয়া হবে তা নিয়েও জটিলতা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এমন দীর্ঘসূত্রতা বিপর্যয় ডেকে আনতে বলে মনে করেন উয়ান।
করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে যতগুলো প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কাজ করছে, এদের মধ্যে কেউ যদি সফলও হয় এই বছরের মধ্যে, তাহলেও এর লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা শেষ করতে আগামী বছরের শুরুর কয়েক মাস লেগে যাবে। এজন্যই ধনী দেশগুলো আগে থেকেই এই খাতে বিনিয়োগ ছাড়াও শীর্ষস্থানীয় টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। পরীক্ষামূলক টিকা প্রাপ্তির জন্য ওই চুক্তি হলেও আদতে প্রথম টিকাগুলো ধনী দেশের জনগণই পেতে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ তো ইতিমধ্যেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাস্ট্রাজেঙ্কার সঙ্গে বহু কোটি ডলারের চুক্তি করে রেখেছে। অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ৩০ মিলিয়ন ডোজ শুধু যুক্তরাজ্যের জনগণই পাবে এমন নিশ্চয়তাও আদায় করেছে ব্রিটিশ সরকার। অ্যাস্ট্রাজেঙ্কার সঙ্গে যুক্ত দুই বৈশ্বিক টিকা গ্রুপ চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৪০০ মিলিয়ন ডোজ টিকাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দ্য অ্যাংলো সুইডিশ ফার্মা তো ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটকে ১ বিলিয়ন ডোজ টিকা উৎপাদনের লাইসেন্স দিতে সম্মত হয়েছে।
