করোনার প্রধান লক্ষণগুলোর একটি কাশি। কিন্তু কাশি শুধু করোনার লক্ষণ নয়। এটি যেকোনো কারণে হতে পারে। অনেক বেশি বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হলো জ্বর নেই, কফ নেই, বুকে ঘড়ঘড় নেই কিন্তু যখন-তখন খুকখুক কাশি। একে বলা হয় ড্রাই কফ বা শুকনো কাশি। কাশির সঙ্গে কখনো কফ বেরোয় না, কিন্তু একটা অস্বস্তি গলায়-বুকে লেগেই থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বুকে স্টেথোস্কোপ লাগিয়ে বা বুকের এক্স-রে করে কিছুই পাওয়া যায় না। কেননা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শুকনো কাশির কারণ ফুসফুসে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি নয়, বরং অন্য কিছু। আর এই অন্য কিছুটা হয়তো এতই সাধারণ যে নজরেই আসছে না। তাই সঠিক কারণটি বুঝতে হলে দরকার কাশির ধরন লক্ষ করা।
কীভাবে বুঝবেন
কাশিটা কি নতুন, না এর আগেও প্রায়ই জ্বালিয়েছে আপনাকে?
মৌসুমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে করোনার কোনো লক্ষণ কি না। কিন্তু, এমন যদি হয় যে শীতে, ঠান্ডায়, গরমে, বর্ষায় বা ধুলাবালিতে এর প্রকোপ বেড়ে যায়, তবে ধরে নিতে পারেন যে এটি অ্যালার্জিজনিত।
আপনার বাড়িতে বা কাজের পরিবেশে এমন কিছু আছে কি না, যা অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ায়। যেমন: হয়তো ধুলোমাখা কার্পেট, আলো-বাতাসহীন ভাপসা ঘর, পোষা প্রাণী, পাখি বা ফুলগাছের রেণু। হয়তো ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র আপনার সহ্য হয় না, অথবা সইতে পারেন না বেশি গরম ও ঘাম। শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায়ও অনেকের কাশি বাড়ে। এসবের যেকোনো কিছুই আপনার কাশির জন্য দায়ী হতে পারে। পরিবারে বা বংশে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস এ ধারণাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে। এক ধরনের হাঁপানি আছে, যাতে শ্বাসকষ্ট না হয়ে স্রেফ খক খক কাশি দেখা যায়; একে বলে কফ ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা। ধুলাবালি বা ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, অ্যালার্জির ওষুধ বা ইনহেলার এই হলো এর চিকিৎসা। তবে যারা ধূমপান করে থাকে, তাদের স্মোকার কফ হতে পারে। তামাক শ্বাসঝিল্লিকে ক্রমাগত ব্যাহত করছে বলেই কাশি ওঠে। লক্ষ করলে দেখতে পারবেন স্বাভাবিক সময়ের কাশির চেয়ে এই নতুন কাশি একটু অন্য ধরনের কি না। কিংবা হঠাৎ তীব্রতায় বা ধরনে পাল্টে গেছে কি না। কারণ, ধূমপায়ীদের কফ হঠাৎ আচরণ পরিবর্তন করলে একটু সতর্ক হওয়া দরকার বটে; ফুসফুসের ক্যানসার ধূমপায়ীদেরই বেশি হয়। যারা ধূমপান করেন, তাদের বছরে কয়েকবার কাশি-শ্বাসকষ্ট-জ্বর মিলিয়ে অসুস্থতা হতে পারে। হয়তো তারা ক্রনিক ব্রংকাইটিসে ভুগছেন। বিষয়টি নজরে আনুন ও যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করুন। কেননা এটি ধীরে ধীরে জটিলতর রূপ নিতে পারে। এক মাসের বেশি কাশি, সঙ্গে ঘুষঘুষে জ্বর, ওজন হ্রাস, অরুচি, কাশির সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে সত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যক্ষ্মা বা ক্যানসারের সম্ভাবনাও এক্ষেত্রে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই যেকোনো ধরনের সম্ভাবনা এবং লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো ধরনের অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতীব জরুরি। আর করোনার অন্যান্য লক্ষণ প্রকাশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে এবং পরিবারের সবার থেকে আলাদা হয়ে বাড়িতেই আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
