চট্টগ্রামে সবজি মাছে বেড়েছে উত্তাপ

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ০৬:৩২ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন মাছের দামও বেড়েছে লাগামহীন। বিক্রেতারা বলছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ হয়নি। ক্রেতাদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতিতেও বাজারে নজরদারি নেই বললেই চলে। মানুষের আয় ও ক্রয়সক্ষমতা কমলেও দেখার কেউ নেই।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল শুক্রবার ফিরিঙ্গীবাজারে কাঁকরোল বিক্রি হয় ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৫০ টাকায়। এ বাজারে আলুর দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২-৪ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয় ৩০-৩২ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পটোল এখন ৫০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে টমেটো এখন ৫০ টাকা। তিতকরলার কেজি ৮০, বরবটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, অথচ গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা।

ফিরিঙ্গীবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. লতিফ বলেন, এখন যা সবজি বিক্রি করছি, তা কয়েক দিন আগের। আড়তে সবজি সংকট। শুনেছি উপজেলার বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে বৃষ্টিতে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গ থেকেও সবজির ট্রাক এসেছে কম। তাই সরবরাহ সংকটে দাম বেড়ে চলেছে।

এদিকে মাছ বিক্রেতারা জানান, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ। তাই সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে গেছে। হিমাগারের মাছ বাজারে আসছে, তবে দাম চড়া। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চল থেকে মাছবোঝাই ট্রাক না আসায় চাষের মাছের দামও বাড়তি। বক্সিরহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছের বাজারে হাঁকডাক নেই। বিক্রেতা জানিয়েছেন, আগের মতো  জমজমাট বিক্রিবাট্টা নেই। গতকাল বক্সিরহাট বাজারে তেলাপিয়া বিক্রি হয় কেজি ১৬০-১৭০ আর ছোট আকারের তেলাপিয়া ১৫০ টাকায়। কাতল ২২০, বার্মার রুই ২৭০ টাকা। অথচ গত সপ্তাহে এসব মাছ কেজিতে আরও ৩০ টাকা কম ছিল। দেশি ছোট রুই ১৬০, পাবদা ৫০০, কোরাল (ছোট) ৪০০ ও মাঝারি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কোরাল ও পাবদা মাছ সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০-৮০ টাকা। গত সপ্তাহে কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া চিংড়ি এখন ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। রূপচাঁদা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে লইট্ট্যা ১৫০, পোপা (বড়) ৪০০, বিভিন্ন ধরনের কার্প জাতীয় মাছ ২০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বক্সিরহাট বাজারের ক্রেতা তৈয়ব বলেন, প্রতি সপ্তাহে সরবরাহ নেই বলে দাম বাড়ে। অথচ আমাদের আয় নেই। একটি অফিসে পিয়নের চাকরি করতাম, সেটাও চলে গেছে। কিন্তু বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেখার কেউ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত