খুলনায় চিকিৎসক ডা. রকিব খান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি জমির শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুস সামাদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ ছাড়া মামলাটিতে গ্রেপ্তার আরও দুই আসামি আবু আলী ও গোলাম মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এরপর তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আরেক আসামি রহিমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খুলনার রাইসা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. রকিব খান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বি এম মনিরুজ্জামান জানান, ডা. রকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি জমির গতকাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি শেষে জমিরকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার মামলার আসামি খাদিজা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন।
চিকিৎসক রকিব খুলনা নগরীর রাইসা ক্লিনিকের পরিচালক ছাড়াও বাগেরহাট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট টেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি বিসিএস স্বাস্থ্য প্রশাসনে পরিচালক পদমর্যাদায় চাকরি করতেন। নগরীর মোহাম্মদ নগরের পল্লবী সড়কের বাসিন্দা আবুল আলীর স্ত্রী শিউলী বেগমকে ১৪ জুন সিজারের জন্য রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় তার অস্ত্রোপচার হয়। নবজাতক ও মা প্রথমে সুস্থ ছিলেন। পরে রোগীর রক্তক্ষরণ হলে ১৫ জুন সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরাও রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে ওই দিন রাতে শিউলী বেগম মারা যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে শিউলীর স্বজনরা ডা. রকিবকে লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার মাথার পেছনে জখম হয়। রকিবকে প্রথমে নগরীর খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শেখ আবু নাসের হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৬ জুন সন্ধ্যায় হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রকিবের। তার মৃত্যুর ঘটনায় ১৭ জুন ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা করেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়।
