সবাই একসঙ্গে বাঁচলাম কি না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ০৭:৩১ এএম

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোমনুর মনির কোনাল। তার সঙ্গে কথা বলেছেন অর্ক রায় সেতু

ঘরবন্দি জীবন...

দীর্ঘদিন ঘরে আছি, নিজেদের ভালোর জন্যই বের হচ্ছি না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বেরোনোর ইচ্ছাও নেই। এই ঘরবন্দি দিনগুলোতে জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করেছি। সম্পর্কের গুরুত্ব, সমাজ নিয়ে ভাবনা, সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা সব কিছুতেই নতুন উপলব্ধি যোগ হয়েছে। আজকাল কনসার্ট খুব মিস করি। কিন্তু রেকর্ডিং বা গানবিষয়ক অন্য কাজ শুরু হলেও কনসার্ট কবে শুরু হবে তা নিয়ে আমি চিন্তিত। কারণ, আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিল্পীর আয়ের প্রধান উৎসই কনসার্ট। সেই কনসার্ট অনিশ্চিত হয়ে গেলে শিল্পীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের দেশে রয়্যালটি সিস্টেম ঠিক করা উচিত। তাহলে শিল্পীদের অবস্থা এত খারাপ হবে না। পাশের দেশ ভারতেও কিন্তু শিল্পীরা তাদের সঠিক প্রাপ্য পান। তাই ভারতের শিল্পীদের পাশে দুস্থ কথাটা শোনা যায় না।

করোনা নিয়ে গান...

করোনা নিয়ে কোনো মিউজিক ছাড়াই ‘আমরা করব জয়’ নামে একটি গান গেয়েছি অনেক আর্টিস্ট মিলে। গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা-অভিনেত্রী, ফ্যাশন ডিজাইনারসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক পেশার মানুষ তাদের আশা-আকাক্সক্ষার কথা জানিয়েছেন গানটির মাধ্যমে। করোনা নিয়ে আরও একাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছি।

অ্যারাবিক গানে...

আমি যেহেতু ছোটবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে কাটিয়েছি, তাই অ্যারাবিক গানের প্রতি আলাদা দুর্বলতা আছে। আমার কণ্ঠে অ্যারাবিক গান দর্শকও খুব উপভোগ করেন। আমি প্রায়ই কনসার্ট বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অ্যারাবিক গান গেয়ে থাকি। একটা অ্যারাবিক গানের সব কাজ সম্পন্ন করে রেখেছি। শুধু ভয়েস দেওয়া বাকি। এই গানটি এখন সময়োপযোগী নয় বলে মনে করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গানটি প্রকাশ করব।

কাজের ক্ষতি...

লকডাউনের আগে ফিল্মে অনেকগুলো গান গেয়েছি। অনেক গান রিলিজ হওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছি। নিজের এবং অন্যান্য কোম্পানির জন্য করা কাজগুলোও আটকে আছে।

মানুষের পাশে...

ঘরে বসে শো, লাইভ অনুষ্ঠান, গান করে যে পারিশ্রমিক পেয়েছি সবটুকু আশপাশের যেসব মানুষ, মিউজিশিয়ান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, জুনিয়র আর্টিস্ট সংকটে পড়েছে তাদের দিয়েছি। আমি যে পার্লারে যেতাম সেখানেই অনেক নিম্নবিত্ত মেয়েরা কাজ করে। সেখানে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। সংকটকালে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ঈদে নতুন জামা-কাপড় নিইনি। সে টাকা আমার এলাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে...

করোনার এই ক্রাইসিসে সবাইকে নিয়ে সবার ভাবতে হবে। আত্মকেন্দ্রিক ভাবনাগুলো মনে হয় একটু পরে করা উচিত। আমার গান কয়টা হলো, আমার ভিউ কত হলো এটা একটু পরে ভাবলে ভালো। আসলেই সবাই একসঙ্গে বাঁচলাম কি না সেটা দেখতে হবে। যেহেতু করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে পুরো পৃথিবী হতাশার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, সবাইকে সবার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

অবসরে পছন্দের কাজ...

ছবি আঁকছি, পুরনো জিনিসপত্র কেটেকুটে নতুন জিনিস বানাচ্ছি, বেশি বেশি সিনেমা দেখছি। মোট কথা ক্রিয়েটিভ কিছু করার চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত