দেশে এখন পর্যন্ত অধস্তন আদালতের ২০ বিচারক ও ৫৯ কর্মচারী করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আরও ২৪ কর্মচারীর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন অধস্তন আদালতের দুজন কর্মচারী। তাছাড়া আরও ছয় বিচারক এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে আছেন। করোনায় আক্রান্ত এক বিচারক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এসব তথ্য জানান।
সাইফুর রহমান বলেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা ও দায়িত্ব পালনের সময় বিচারক ও কর্মচারীরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২২ মে প্রথম নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ শাহাজাহান কবির ও মুন্সীগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রোকেয়া রহমান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তারা সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন। এই মুহূর্তে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন লালমনিরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) ফেরদৌস আহমেদ। তাকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এর বিচারক
(সিনিয়র জজ) বেগম শামীম আহমেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. রুস্তম আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও জানান, এই পাঁচ বিচারক ছাড়াও অধস্তন আদালতের অপর ১৫ বিচারক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন। তারা হলেন কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) কিরণ শংকর হালদার, ভোলার জেলা ও দায়রা জজ এ বি এম মাহমুদুল হক, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (জেলা জজ) এস মোহাম্মদ আলী, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম, বরিশালের অতিরিক্ত জেলা জজ মুহাম্মাদ মাহবুব আলম, সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ মাসুদ পারভেজ, নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ মাসুদ জামান, কুড়িগ্রাম ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তৈয়ব আলী, নেত্রকোনার সহকারী জজ মো. মেহেদী হাসান, চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দে, চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমান, নোয়াখালীর হাতিয়ার চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিজাম উদ্দিন, ঢাকার সিনিয়র সহকারী জজ তসরুজ্জামান, খাগড়াছড়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ও ডিপিডিসির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রেজমিন সুলতানা।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র জানান, মাদারীপুর জেলা জজ আদালতের জারিকারক মো. কাউসার গত ১৮ জুন এবং নওগাঁ জেলা জজ আদালতের অফিস সহায়ক মহিউদ্দিন মোহন ১৯ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তাদের কভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত বিচারক ও কর্মচারীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা জজদের সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রধান বিচারপতিকে তা অবহিত করা হচ্ছে।
