চট্টগ্রামে প্রতি সপ্তাহে এক হাজার করে বাড়ছে করোনা রোগী। গত শুক্রবার ১৮৭ জনসহ জেলায় শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৮ জন। রোগীর সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুহারও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ জন মারা গেছে। সব মিলে জেলায় ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে লোকজনের আসা-যাওয়া বৃদ্ধি ও কার্যকর লকডাউনের অভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামে গত ২৬ মার্চ থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। ৩ এপ্রিল প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। ৩১ মে পর্যন্ত ২ হাজার ৯৮৫ জন আক্রান্ত হয়। এরপরই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে শনাক্ত। জুনের প্রথম সপ্তাহে ১ হাজার ৯৩ এবং পরের সপ্তাহে আরও ১ হাজার ৬ জন শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত নতুন ১ হাজার ১৪ জনসহ জেলায় ৬ হাজার ৯৮ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ১৭৯, বুধবার ১৭৮, বৃহস্পতিবার ১৪৮ ও শুক্রবার ১৮৭ জন শনাক্ত হয়। অর্থাৎ গড়ে দিনে ১৫০-১৬০ জন শনাক্ত হচ্ছে। আর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে, এক মাস আগে ১৯ মে পর্যন্ত জেলায় ৯৭৭ রোগী ছিল। কিন্তু পরের এক মাসে ৫ হাজার ১২১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় করোনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু পরের দুই মাসে এ সংখ্যা ১৩৯ জনে ঠেকেছে। এর মধ্যে শেষ এক সপ্তাহে মারা গেছেন ২২ জন।
করোনা ডেডিকেট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুর রব জানান, করোনায় মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬০-৮০ বছর। করোনার পাশাপাশি তারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। আগে থেকে বিভিন্ন রোগ থাকায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম ছিল। এ জন্য বয়স্কদের একেবারেই বাসার বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়–য়া জানান, কার্যকর লকডাউনের অভাবে চট্টগ্রামে আক্রান্ত বাড়ছে। এ ছাড়া করোনার হটস্পট রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পোশাকশ্রমিকসহ লোকজন অবাধে জেলায় আসছে। আক্রান্ত এলাকা থেকে উপজেলায়ও যাচ্ছে। এসব যাতায়াতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রমণ বাড়ছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় নমুনা পরীক্ষার বুথ দেওয়া হয়েছে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে পরীক্ষার ফলাফল খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে না, গা-ছাড়াভাবের কারণেই রোগী বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৭৪ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৮৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২০ জন।’
