চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল ৪২ টাকায় মুদি দোকানে বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত শুক্রবার রাতে এবং গতকাল শনিবার হাটহাজারীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ওএমএস’র ৯৭ বস্তা চাল জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। এসব অভিযানের সময় ওএমএস’র চাল চড়া দামে মুদি দোকানে বিক্রির প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রুহুল আমিন অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন।
জানা যায়, হাটহাজারী পৌরসভায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন ডিলার মো. ইউসুফ। তিনি নিয়ম অনুযায়ী ওএমএস’র চাল এলাকার দরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি না করে স্থানীয় লোকমানিয়া স্টোর, গাউছিয়া স্টোর ও আক্তার স্টোর নামে তিনটি মুদি দোকানে বেশি দামে বিক্রি করেন। ওই চাল ফতেপুর ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট এলাকার আক্তার স্টোর ৪২ টাকা কেজি দরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন আক্তার স্টোরে অভিযান চালিয়ে গুদাম থেকে ৭ বস্তা ওএমএস’র চাল উদ্ধার করে। পরে দোকানটির মালিকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স লোকমানিয়া স্টোরের গুদাম থেকে ওএমএস’র আরও ৬০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এরপর গতকাল শনিবার পৌরসভার বাসস্ট্যান্ডের মেখল রোডের গাউছিয়া স্টোর থেকে জব্দ করা হয় ওএমএস’র আরও ৩০ বস্তা চাল।
অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মাদ রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য ১০ টাকা কেজির এইসব চাল কীভাবে মুদি দোকানে গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অনিয়মে জড়িত ডিলার মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সোনাধন ত্রিপুরা জানান, ওএমএস’র চাল উদ্ধারের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ডিলার মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
