আদর্শের ক্ষেত্রে আপস করেননি

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ০৭:৪১ এএম

আগামী ২৬ জুন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর ৮৭তম জন্মদিন। কিন্তু গতকালই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি। তাকে স্মরণ করেছেন তারই অনুজ সংস্কৃতি-যোদ্ধা মামুনুর রশীদ। কথা বলেছেন মাসিদ রণ

কামাল লোহানী...

কামাল লোহানী নামটা আসলেই আমার মনে যে শব্দটি প্রথমে চলে আসে, তা হলোÑ ‘আন্দোলনের মানুষ’। একটি মানুষ তখনই আন্দোলন করতে পারে, যখন তিনি মানুষকে নিয়ে ভাবেন। আত্মকেন্দ্রিক মানুষ কখনো আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারে না। লোহানী ভাই জাতির নানা বিষয়ে আন্দোলনের সম্মুখভাগের মানুষ ছিলেন। এজন্য তাকে বেশ কয়েকবার জেলেও যেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি হাল ছেড়ে দেননি। দেশ ও সংস্কৃতির জন্য আন্দোলন করে গেছেন। ১৯৬১ সালে অন্য অনেকের সঙ্গে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে তারও ছিল দৃঢ় ভূমিকা। ছায়ানট, উদীচী, ক্রান্তিসহ বহু সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ষাটের দশক থেকে রাজনীতি আর সংস্কৃতি যখন পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলছিল, তখন তিনি ছিলেন সেই বন্ধনের একজন রূপকার।

সখ্য...

লোহানী ভাইকে অনেক আগে থেকে চিনলেও আমার সঙ্গে তার সখ্য হয় মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলা বেতারে কাজ করতে গিয়ে। তিনি সংবাদ বিভাগের দায়িত্বে নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন ঢাকা বেতারের। আমি স্বাধীন বাংলা বেতারে নাটক করতাম। একটি অপরিসর কক্ষে একসঙ্গে থাকতাম। তখন তার জীবনবোধ ও দেশ নিয়ে ভাবনার কথা কাছ থেকে জানতে পারি।

আদর্শে আপসহীন...

দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি কর্মরত ছিলেন। কিন্তু কোনো পদ বা অর্থেও মোহ তাকে পরাজিত করতে পারেনি। অসংখ্যবার শুধু আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে তিনি পত্রিকা ও সংগঠন ছেড়ে দিয়েছেন। এই গুণটিই আজ তাকে মানুষের মনে শ্রদ্ধার আসন দিয়েছে।

শেষ জীবনে...

শেষ জীবনে তার শরীরে অনেক ধরনের অসুখ বাসা বাঁধে। কিন্তু মানুষকে ভালোবাসতেন বলে কখনো নিজেকে মানুষের থেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তিনি চাইতেন মানুষ তার আশপাশে ভিড় করে থাকুক। এত বয়সেও স্মৃতিশক্তি ছিল টনটনে। সাল-তারিখ মোটামুটি ঠিক রেখে অনর্গল কথা বলে যেতে পারতেন। আসলে কথা বলতে খুব ভালো লাগত তার। শেষ দিকে একেবারেই চোখে দেখতে পেতেন না। তাই যখন কাছে গিয়ে বলতাম, লোহানী ভাই আমি মামুন। তখন সেই চিরচেনা হাসি দিয়ে কুশলবিনিময় করতেন। কোনো কিছু শেয়ার করার

থাকলে করতেন। আমার খুব খারাপ লাগত যে, একজন লেখক চোখে দেখতে পান না। তারপরও লেখাটা শেষ সময় পর্যন্ত চালিয়ে গেছেন। এমন একজন আদর্শবান মানুষের সঙ্গে জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছি, যা ভাবতেই ভালো লাগে। অনেক কিছু নিয়েছি তার কাছ থেকে। শেষ বিদায়ে বলতে চাই, লোহানী ভাই যেখানে থাকুন, খুব ভালো থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত