লকডাউনেও থেমে নেই বনবিধ্বংসী তৎপরতা

আপডেট : ২২ জুন ২০২০, ০৬:৫৯ এএম

মহামারী পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে আকাশে উড়ছে হাতেগোনা কিছু বিমান, রাস্তাঘাটেও কম যানবাহনের ভিড়। তাই বলা হচ্ছে, লকডাউন মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করলেও পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য এখন সুসময়। কিন্তু ইকুয়েডরের পরিবেশবাদী সাংবাদিক কিম্বার্লি ব্রাউন বলছেন, লকডাউনের কারণে উজাড় হয়ে যাচ্ছে ক্রান্তীয় বনাঞ্চল। বিবিসিতে প্রকাশিত তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি

ঘরবন্দি মানুষ, উন্মুক্ত প্রকৃতি

কভিড-১৯ ভাইরাসটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় একে একে প্রায় সব দেশই নিরাপদ থাকতে সীমিত কিংবা বৃহৎ পরিসরে লকডাউনকে বেছে নিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে ঘরবন্দি জীবনযাপন করছে। এতে শহরগুলোর দূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে, পরিশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে বাতাস। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বনের পশুরাও শহরের শূন্য রাস্তায় দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লকডাউনের কারণে তাই অনেকাংশেই লাভবান হয়েছে প্রকৃতি। তবে লকডাউন চলাকালে ক্রান্তীয় বনাঞ্চলগুলোর গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো দাবি করছে, লকডাউনের সময় বন-জঙ্গল ধ্বংসের হার আগের তুলনায় অনেকাংশেই বেড়ে গেছে। বেড়েছে বন্যপ্রাণী শিকার, জীবজন্তু পাচার ও অবৈধ খননের মতো ঘটনাও। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মতে, এই প্রবণতাটি বিপজ্জনক এবং এই ক্ষতি অপূরণীয়।

‘কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান ট্রোয়েং বলেন, ‘কভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে প্রকৃতি একটু স্বস্তি পেয়েছে, এ কথাটি একেবারেই ভুল। শহুরে প্রকৃতি হয়তো কিছুটা লাভবান হয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর অবস্থা একেবারেই বিপরীত।’

ট্রোয়েং জানান, লকডাউনের সময় বন উজাড় করার মতো ঘটনা কতটুকু বেড়েছে, তা এখনই সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে, আপদকালীন এ সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বন উজাড়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার খবর তারা প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করেছেন। বিশেষ করে, ব্রাজিল ও কলম্বিয়ায় অবৈধ উপায়ে কাঠ সংগ্রহ এবং খনি থেকে উত্তোলনের হার বেড়ে গেছে। এশিয়া মহাদেশে ফিলিপাইনেও বনের গাছ কাটার পাশাপাশি বন্য জীবজন্তু চোরাকারবারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। আফ্রিকার কেনিয়ায় কাঠ কয়লা ও বনের পশুদের মাংস সংগ্রহের পাশাপাশি হাতির দাঁত চোরাকারবারের ঘটনা বেড়েছে। যদিও ২০১৮ সাল থেকে দেশটিতে এ ধরনের কাজ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। অবৈধভাবে খনি উত্তোলন ও গাছ কাটার হার বেড়েছে কম্বোডিয়াতেও। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা ও মাদাগাস্কারেও বন উজাড়ের মহোৎসব চলছে।

ট্রোয়েং-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লকডাউনের সময় দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বন উজাড়ের ঘটনা ঘটেছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ইকুয়েডরে আদিবাসী ও আফ্রো বংশোদ্ভূত কয়েকটি সম্প্রদায়ের দেওয়া তথ্য মতে, দেশটির আমাজন বনের অংশে অবৈধ খননের পাশাপাশি বিপুল হারে গাছপালা কেটে নিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা।

ট্রোয়েং-এর মতে, এ ধরনের প্রবণতার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, লকডাউনের সময় বন সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠন ও সুযোগসন্ধানীরা তাদের কার্যক্রমকে বিস্তৃত করছে। বন উজাড়ের দ্বিতীয় কারণটি হলো ওইসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা বসবাস করেন, লকডাউনের কারণে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে গেছে। ফলে তারা আয় ও খাবারের জন্য বনের ওপর আরও অধিক মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিশেষ করে মাদাগাস্কার ও কম্বোডিয়ার শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে গেছে। ফলে বনসংলগ্ন এলাকাগুলোর পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ যুক্ত হয়েছে।

ট্রোয়েং বলেন, ‘এ ধরনের বাড়ন্ত প্রবণতা আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন না যে, কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ থেমে গেলে এই প্রবণতা কিছু মাত্রায় কমে যাবে। কারণ সেই সময়টিতে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে আমার অনুমান হলো এই প্রবণতার সঙ্গে আমাদের আরও কয়েক বছর লড়াই করতে হবে।’

বন উজাড়ের এসব ঘটনায় গুরুতর অনেক সমস্যার সৃষ্টি হবে। এটা নিশ্চিত যে, ওইসব অঞ্চলে যেসব আদিবাসী ও অন্য সম্প্রদায় বাস করে; বন ধ্বংস হওয়ার ফলে তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। অনেকেই হয়তো নিজেদের ভূমি রক্ষায় অপরাধীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়বে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রান্তীয় বনাঞ্চল ধ্বংস করার ফলে নতুন প্রাণঘাতী অনেক রোগ-বালাই প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সামর্থ্যকেও খর্ব করতে পারে। কারণ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণে মূল ভূমিকা রাখে এসব বনাঞ্চল।

আমাজানের ক্ষয়-ক্ষতি

‘কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান ট্রোয়েং-এর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ এখন আমাজনের ব্রাজিল অংশ। বন ধ্বংসের হার সেখানে অস্বাভাবিক মাত্রা পেয়েছে। আদিবাসী অঞ্চলগুলোতে বেড়েছে অবৈধ খননের হারও। আর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ওই অঞ্চলগুলোতেও করোনাভাইরাস হানা দিয়েছে।

ট্রোয়েং বলেন, ‘এগুলো আমার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা এমন এক পরিস্থিতি যে, অনেকগুলো বাজে ব্যাপার একসঙ্গে ঘটে যাচ্ছে।’

ব্রাজিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীটিকে শনাক্ত করা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। পরে দেশটিতে লকডাউন কার্যকর করা হলেও, বনের সুরক্ষাব্যবস্থায় কোনো নজর দেওয়া হয়নি। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘আইএনপিই’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলে আমাজনের ব্রাজিল অংশে বন ধ্বংস করার হার বেড়েছে অন্তত ৬৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম চার মাসে বনাঞ্চল ধ্বংসের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০২ বর্গকিলোমিটার অঞ্চলের বন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

ব্রাজিলের পরিবেশবাদী সংস্থা ‘আইপিএএম’-এর বিজ্ঞানী অ্যান অ্যালেন্সার বলেন, ‘বন উজাড়ের ঘটনায় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এখন অনেকেই নির্ভয়ে এই কাজটি করছে। কারণ তারা মনে করছে, সরকার স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে এখন ব্যতিব্যস্ত থাকায় তাদের দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না।’ দুষ্কৃতকারীদের জন্য এই পরিস্থিতিকে এক মহাসুযোগ বলে আখ্যায়িত করে অ্যালেন্সার।

গত মার্চে ব্রাজিলের দুটি পরিবেশ সংরক্ষক সংস্থা ওনধসধ ও ওঈগইরড় বনাঞ্চলগুলোতে নজরদারি বন্ধ করে দেয়। সংস্থা দুটি দাবি করছে, চলাচলে বিধিনিষেধের জন্য দুর্গম অঞ্চলগুলোতে তাদের সামর্থ্য কমে গেছে। এ ছাড়া নিজেদের কর্মী কিংবা আদিবাসীদের মধ্যে যেন সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য বেশ কিছু নিয়মিত সেবা এখন বন্ধ রাখা হয়েছে।

অ্যালেন্সার জানান, ২০২০ সালে ব্রাজিলে বেশির ভাগ বনভূমি ধ্বংস হয়েছে মূলত সরকারি ভূমি দখলের মধ্য দিয়ে। পরিবেশবাদী সংস্থা আইপিএএমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম তিন মাসে ব্রাজিলে যে পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, তার ৫৩ শতাংশই ঘটেছে সংরক্ষিত অঞ্চল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। গত বছরের তুলনায় এই পরিসংখ্যানটি ৩৮ শতাংশ বেশি। অ্যালেন্সার জানান, এসব বন ধ্বংস করে মূলত গোচারণ ভূমি বানানো হয়েছে।

গত বছর ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটিতে বনভূমি ধ্বংসের হার বেড়ে যায়। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই আমাজন বনাঞ্চলে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করার ঘোষণা দেন বলসোনারো। গত মে মাসেই তিনি দাবানল ও নির্বিচার গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনীকে অনুমোদন দিলেও পরিবেশবাদীরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে এটা আসলে সমস্যার কোনো সমাধান নয়। অ্যালেন্সার ও অন্য সংরক্ষণবাদীদের মতে, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নীতিগুলোই মূলত আমাজন বনাঞ্চলে ভূমি দখল, অবৈধ খনন ও নির্বিচার গাছ কাটার জন্য দায়ী।

বনে বনে দাবানল

সংরক্ষণবাদীরা আশঙ্কা করছেন বন উজাড়ের হার বেড়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে গত বছরের চেয়েও এবার বেশি মাত্রায় দাবানলের সূত্রপাত হতে পারে। সাধারণত শুকনো মৌসুমগুলোতেই আমাজন অঞ্চলে দাবানলের সৃষ্টি হয়। কারণ এ সময়টিতে মানুষ

কৃষিজমি সৃষ্টি করার জন্য প্রায়ই বনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর ব্রাজিলের বনাঞ্চলে আগুনের মাত্রা ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ধোঁয়ার কারণে বনাঞ্চলের কাছাকাছি শহরগুলোতে বসবাসকারী মানুষরা ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়।

বর্তমানে ব্রাজিলের হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড়। মে মাসের শুরুর দিকে এই ভাইরাসটির নতুন বৈশ্বিক এপিসেন্টার হিসেবে ব্রাজিলের নাম ঘোষণা করা হয়। শুকনো মৌসুমে আসন্ন দাবানলের বিষয়টি ইঙ্গিত করে অ্যালেন্সার বলেন, ‘ইতিমধ্যেই দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে পরিস্থিতি। সামনের সময়গুলোতে হয়তো কয়েকটি দুঃস্বপ্ন একসঙ্গে হানা দেবে।’

ব্রাজিলের পাশের কলম্বিয়ায় ইতিমধ্যেই বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে। গত মার্চে দেশটির আমাজন বনাঞ্চলে ১২ হাজার ৯৫৩টি ‘হট পয়েন্ট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা প্রায় তিন গুণ বেশি। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিবেচনায় এই হট পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করা হয়।

কলম্বিয়ার ‘প্রাকৃতিক উৎস ও জীবিকা’ সমন্বয়ক মিগুয়েল প্যাশকো বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন পদক্ষেপের জন্য ‘হট পয়েন্ট’ বেড়েছে এমন না হলেও এই পরিস্থিতি কিছু মাত্রায় সমস্যাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।’

গত মার্চের শেষদিকে কলম্বিয়ায় লকডাউন কার্যকর করার পর বন সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়। এই সুযোগে দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র দলগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বনাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা গোচারণ ভূমি তৈরি, কোকেইনের জন্য কোকা চাষের জমি তৈরি ও অন্যান্য ফসলি জমি তৈরির জন্য বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল কেটে সাফ করে দিয়েছে। লকডাউনের সময়সীমা যত বাড়ছে, সেখানকার বনাঞ্চল ধ্বংসের হারও তত বাড়ছে। কলম্বিয়ার পরিবেশ-সংক্রান্ত কয়েকটি কর্র্তৃপক্ষ যেসব প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাতে দেখা গেছে লকডাউনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে অবৈধ উপায়ে নির্বিচার গাছ কাটা এবং বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা বেড়ে চলেছে। কলম্বিয়ায় এ ধরনের ঘটনা বাড়তে শুরু করেছিল ২০১৬ সাল থেকেই, যখন দেশটির দুর্ধর্ষ ফার্ক গেরিলারা দেশটির সরকারের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করে। চুক্তির পর গেরিলারা গভীর বনাঞ্চল থেকে ফিরে এলে বন শোষকরা এর সুযোগ নেয়। ফলে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পর বন সুরক্ষায় কর্র্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও লকডাউনের কারণে তা থমকে যায়।

ফেরার পথ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের কারণে বন উজাড়ের ঘটনা দুশ্চিন্তার বিষয়। এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার প্রধানদের করণীয় বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বন ধ্বংসে নিয়োজিত অপরাধ গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূলের জন্য ক্র্যাকডাউনের মতো পন্থা অবলম্বন প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও তাদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে।

সংরক্ষণবাদীরা একটি বিষয়ে একমত যে, দীর্ঘ মেয়াদে ক্রান্তীয় বনাঞ্চলগুলোর সুরক্ষার জন্য ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। নিজেদের বন সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আরও ক্ষমতাশালী করে তুলতে হবে। ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ জীবনকে আরও উৎসাহিত করতে হবে। সরকারি বনকর্মী বাহিনীতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও যুক্ত করতে হবে।

কলম্বিয়ার ‘প্রাকৃতিক উৎস ও জীবিকা’ সমন্বয়ক মিগুয়েল প্যাশকোর দেওয়া তথ্য মতে, দেশটির আমাজন বনসংলগ্ন গুয়াভিয়ার ও কাকুয়েতা অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের বন সুরক্ষায় যুক্ত করার পর ২০১৮ সালে অন্যান্য বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ‘হট পয়েন্ট’ কমে যায়। এই কমে যাওয়া এখনো অব্যাহত আছে।

‘কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান ট্রোয়েং বলেন, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সরকার প্রধানদের ক্রান্তীয় বনাঞ্চলগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং বন উজাড় ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি ফিলিপাইনের উদাহরণ টানেন। দেশটিতে বন উজাড় ও বন্যপ্রাণী চোরাকারবারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর ঘোষণা করা হয়, যারা এ ধরনের কাজে জড়িত তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে। শুধু ঘোষণাই নয়, জরুরি ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নও শুরু হয়ে গেছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাহসী পদক্ষেপ বেছে নিয়েছে পেরু। দেশটিতে লকডাউনের মধ্যেও বন সুরক্ষা বাহিনী এখনো বনের মধ্যেই অবস্থান করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত