তাহসান খান আর বিদ্যা সিনহা মিমের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দুজনেই দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে মেধা, ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন সেন্স ও গ্ল্যামার দিয়ে অবস্থান করে নিয়েছেন ভক্ত হৃদয়ে। একসঙ্গে জুটি বেঁধে বেশকিছু কাজ করেছেন সম্প্রতি। মিমের ভাষায়, ‘খুব বেশি নয় কিন্তু যে কটি কাজ করেছি সবই সাড়া পেয়েছে।’
লকডাউনের এই সময়ে এ জুটির রসায়ন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। লকডাউনে নিজ নিজ ঘরে থেকে অনেকেই অনেক ধরনের কাজ করেছেন। কিন্তু তাহসান-মিম অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কানেকশন’ সবচেয়ে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। মিম বললেন, ‘এটি আমার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য করা হয়েছে। তাই যাদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা খুব ভালো তেমন কিছু মানুষকেই কাজটির জন্য বলি। পরিচালক রায়হান রাফি, তাহসান ভাই, এডিটিং প্যানেল সবাই অনেক কষ্ট করেছে। তাই কাজটি ভালো হয়েছে। তাহসান ভাই এক কথায় কাজটি করে দিয়েছেন। শুধু অভিনয় নয়, তিনি গান গেয়েছেন, সংগীত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।’
শুধু এই স্বল্পদৈর্ঘ্য নয়, লকডাউনে মিম তার ইউটিউব চ্যানেলে শুরু করেছেন উপস্থাপনার কাজও। ‘মিম’স কাস্টডি’ নামের এই শোতেও তিনি প্রথম হাজির হন তাহসানকে নিয়ে। সেখানে তাদের সম্পর্কের সহজ দিকটি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে তাহসানের সংসারে ভাঙনের সময় মিম আর তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার চমৎকার ব্যাখ্যা তারা দিয়েছেন। তাহসান বলেন, ‘আমি গুজবকে খুব একটা পাত্তা দিই না। এটা তারকা জীবনের অংশ বলেই মেনে নিয়েছি। আমার বিচ্ছেদের সময় আমাকে যারা পছন্দ করেন না এমন কিছু পরিচালক মিমের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে একটি গুজব রটিয়েছিল। কিন্তু তখন মিম আমাকে দারুণভাবে সাপোর্ট করেছে। মিম কয়েকজন সাংবাদিককে আমাদের ম্যাসেঞ্জারের কথাবার্তার স্ক্রিন শট পাঠিয়ে বিষয়টি ক্লিয়ার করে। আসলেই আমাদের মধ্যে ভাইবোন, বন্ধু বা ভালো সহকর্মীর সম্পর্ক। ভালো বোঝাপড়া আছে বলেই তার সঙ্গে কাজগুলোতে কেমিস্ট্রি দারুণ হয়। দর্শক তা ভালোভাবে নিয়েছে।’ মিম বলেন, ‘আসলে জুটি তৈরি করে দর্শক। আমরা বেশকিছু নাটক করেছি। বিশেষ করে ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প প্রজেক্টের নাটকটি খুব হিট করে। এরপর গ্রামীণফোনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আমরা দারুণ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। এই কাজগুলোই মূলত আমাদের জুটি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।’
মিম অনেক আগে থেকেই সিনেমার দিকে মনোযোগী। তাহসান গান, নাটকের পাশাপাশি এখন সিনেমা নিয়েও বেশ আগ্রহী। এই জুটিকে সিনেমার পর্দায় কবে দেখা যাবে জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি দর্শকই ঠিক করে জুটি কে কে হবে? তাদের চাওয়া থেকেই পরিচালক-প্রযোজকরা আমাদের কাস্টিং করেন। আমার আর তাহসান ভাইয়ের জুটির চাহিদা তৈরি হয়েছে। যদি কোনো গল্পে কোনো পরিচালক মনে করেন আমাদের মানাবে তাহলে আমি আগ্রহের সঙ্গে কাজটি করব। কারণ তিনি একজন অসাধারণ মানুষ, গুণী শিল্পী। তার সঙ্গে তেমনই বড় কোনো প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হওয়ার ইচ্ছা।’
লকডাউনে তাহসান গানের চর্চার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ সরব। তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধ্যমতো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতে খুব একটা সোশ্যাল মিডিয়ায় অভ্যস্ত ছিলাম না। কিন্তু লকডাউনের এই কঠিন সময়ে মনে হয়েছে যত বেশি পারা যায় দর্শককে বিনোদন দিতে হবে। এতে তারা একটু হলেও আনন্দে সময় পার করতে পারবেন। লকডাউন শেষে দর্শক যদি ৫ জন এন্টারটেইনারের নাম মনে করেন যে তারা আমাদের সবচেয়ে ভালো সময় উপহার দিয়েছেন, তারমধ্যে যেন আমার নামটিও থাকে সেই চেষ্টা করছি। আর লেখালেখির চর্চাটা বেড়েছে।’
মিম এখন নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়েই বেশি ব্যস্ত। আজ ‘মিম’স কাস্টডি’ অনুষ্ঠানে তার মুখোমুখি হবেন এ সময়ের জনপ্রিয় তারকা সিয়াম আহমেদ।
