রেফারি নিয়ে আলোচনা হল। খেলোয়াড়েরা মেজাজ হারালেন। ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ সবকিছুর ব্যাখ্যা দিলেন। লকডাউন পরবর্তী লা লিগার এমন একটি জমজমাট ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ১-২ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
কষ্টার্জিত এই জয়ে লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে গেছে জিনেদিন জিদানের দল। ২০১২ সালের পর একটি মাত্র লা লিগা ট্রফি জেতা দলটি আরেকটি শিরোপা থেকে এখন আট জয় দূরে।
শুক্রবার নিজেদের ম্যাচে লিওনেল মেসির বার্সেলোনা গোলশূন্য ‘ড্র’ করায় রিয়াল আর তাদের পয়েন্ট সমান। কিন্তু করিম বেনজেমারা ‘হেড-টু-হেড’ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এক নম্বরে রয়েছেন।
রিয়াল এদিন জয় পেয়েছে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে। দারণ খেলতে থাকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র দ্বিতীয়ার্ধের ৫০তম মিনিটে ফাউলের শিকার হলে সার্জিও রামোস পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন। এই পেনাল্টি নিয়ে সোসিয়েদাদ প্রবল আপত্তি জানায়।
এরপর ৭০ মিনিটের সময় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেনজেমা। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে (৮৩তম মিনিটে) মিকেল মেরিনো গোল করে রিয়ালকে চিন্তায় ফেলেন।
রেফারি আবার আলোচনায় আসেন ৬৭তম মিনিটে সোসিয়েদাদের গোল বাতিল করে। বদলি খেলোয়াড় আদনান ইয়ানুজাই বল জালে পাঠালে মেরিনোকে অফসাইড ধরেন রেফারি।
মেরিনো বলে টাচ করেননি, কিংবা বলে যাওয়ার চেষ্টাও করেননি। তবু রেফারি অফসাইড ধরেন। অফসাইড সংক্রান্ত নিয়মে এই দুটি দিক খুব গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় আরেকটি বিষয় আছে, যেটি রেফারির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। তিনি সেটিই বিবেচনা করেছেন। মেরিনো রিয়াল গোলরক্ষকের ‘ভিউ ব্লক’ করেন বলে ধরে নিয়েছেন রেফারি। অর্থাৎ গোল ঠেকাতে প্রতিপক্ষ কিপারের জন্য ‘প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন’ তিনি।
ম্যাচটিতে জয় পেলেও রামোসের ইনজুরি রিয়ালকে চিন্তায় ফেলছে। পায়ে তাকে বার কয়েক বরফ নিতে দেখা গেছে।
এভাবে ম্যাচ জিতে এতটুকু বিচলিত নন জিদান। বরং রেফারিকে নিয়ে কথা ওঠায় বিরক্ত হয়েছেন। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘মাঠে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য রেফারি রাখা হয়েছে। যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই দিয়েছেন।’
‘ভিনিসিয়াসের ঘটনা আমি দেখিনি। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে ওটা পেনাল্টি। বেনজেমার গোল তাই বৈধ।’
বার্সা-রিয়াল দুই দলেরই আর আটটি করে ম্যাচ বাকি আছে। উভয় দল এভাবে সমান পয়েন্টে থেকে লিগ শেষ করলে কপাল পুড়বে বার্সেলোনার। কারণ গত মার্চে মুখোমুখি দেখায় রিয়ালের বিপক্ষে হারতে হয়েছিল তাদের।
