পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার এক বছরের মধ্যে রানার অটোমোবাইলের মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস নেমেছে। মোটরসাইকেল বিক্রি কমে যাওয়ায় ২০১৯-২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মোটরসাইকেলের বিক্রি পড়ে যাওয়ায় চলতি ২০১৯-২০ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রানার অটোমোবাইলের টার্নওভার কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। কোম্পানির অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
রানার অটোমোবাইল লিমিটেডের আয় আসে ট্রাক ও মোটরসাইকেল বিক্রি থেকে। এরমধ্যে মোট টার্নওভারের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে মোটরসাইকেল বিক্রি থেকে। চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি থাকলেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মোটরসাইকেল বিক্রি হঠাৎ করেই কমে গেছে। এ সময়ে ট্রাক বিক্রি কমলেও তা মোটরসাইকেলের তুলনায় কম।
এ বিষয়ে রানার অটোমোবাইল লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনৎ দত্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৮০ সিসির মোটরসাইকেলে আমরা মার্কেট লিডার। বাজারে এ ধরনের মোটরসাইকেলের প্রায় ৯০ শতাংশ বিক্রি করে রানার। এছাড়া ১০০ সিসির মোটরসাইকেলেও মোটামুটি বাজার রয়েছে আমাদের। কিন্তু ট্রান্সপোর্ট আইনের কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করায় আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে। আমাদের পণ্যের বড় অংশের ক্রেতা হচ্ছেন নিম্নআয়ের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারীরা। আগে গ্রামীণ এলাকায় বেআইনি হলেও মোটরসাইকেল চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা রেজিস্ট্রেশন নিতেন না। এখন ড্রাইভিং লাইসেন্সে কড়াকড়ি আরোপ করায় গ্রামীণ এলাকায় আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিক্রি বাড়াতে ইতিমধ্যেই তিনটি নতুন প্রডাক্ট বাজারে ছেড়েছি। পণ্যগুলো প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ছাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকরা যাতে খুব সহজেই আমাদের শো-রুম থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও রেখেছি।
চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রানার অটোমোবাইলের বিক্রি থেকে আয় হয় ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৫ শতংশ কম। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে মোটরসাইকেল থেকে আয় হয় ৮১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সময়ে মোটরসাইকেলের বিক্রি কমেছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। যদিও চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোটরসাইকেলের বিক্রি বেড়েছিল ৪৭ শতাংশ।
চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ট্রাক বিক্রিও কমেছে। এ সময়ে ট্রাক বিক্রি থেকে রানারের আয় হয় ১৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। উৎপাদন ব্যয়ের পর এ সময়ে রানার অটোমোবাইলের মোট আয় হয় ৬৮ কোটি টাকা। প্রশাসনিক, বিক্রি ও বাজারজাতকরণের ব্যয়ের পর পরিচালন আয় হয় ২৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩১ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর তৃতীয় প্রান্তিকে রানার অটোমোবাইলের নিট মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় রানার অটোমোবাইল। তালিকাভুক্তির পর এক বছরের মধ্যেই কোম্পানির আয় কমে গেল। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে আয় কমলেও চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে কোম্পানির আয় তুলনামূলক কম কমেছে। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রানারের আয় হয়েছে ৮৬১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে রানার অটোমোবাইলের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১০৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেশি। চলতি বছর বিক্রি থেকে আয় কমলেও নিট মুনাফা সামান্য বেড়েছে। এ সময়ে করপরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৫ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।
২০১৯ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে রানার অটোমোবাইল ১০০ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস ছিল ৭৫ টাকা। বাজার পরিস্থিতি মন্দার কারণে বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। এর প্রভাবে রানারের শেয়ারেও কমেছে। গতকাল এ কোম্পানির শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ৪৬ টাকা ১০ পয়সা।
