সিলগালা ক্লাবগুলো মাদকসেবীদের আখড়া

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ০৫:৫৫ এএম

সিলগালা করে দেওয়া ক্যাসিনো ক্লাবগুলো ঘিরে এখন গড়ে উঠেছে মাদকসেবীদের আখড়া। করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে পুলিশও এসব এলাকায় সেভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। আর এ সুযোগে বন্ধ ক্লাবগুলো এক রকমের দখলে নিয়েছে মাদকসেবীরা।

এ প্রসঙ্গে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাত খান গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালতের নির্দেশে ক্লাবগুলোতে তালা মেরে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ক্লাবের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ টহল দেয়। তবে ক্লাবগুলোর আশপাশে মাদকসেবীদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তারপরও বিষয়টি নজরদারির মধ্যে আনা হবে। ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারা তথ্য দিয়ে পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বদলে যায় ক্লাবপাড়া। সামনে ক্ল্যাবগুলোর সাইনবোর্ড থাকলেও প্রতিটি ক্লাবের দরজা এখনো সিলগালা করা। ঝুলছে পুলিশের লাগানো তালা। দিন-রাত কোলাহল থাকা ক্লাব চত্বরে অভিযানের পর এখনো চঞ্চলতা ফেরেনি। নেই খেলোয়াড়দেরও তেমন উপস্থিতি। ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড, ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া চক্র, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, সোনালী অতীত ক্রীড়া চক্র, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্র, ধানম-ি ক্লাব, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র এখনো নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। একমাত্র ওয়ারী ক্লাব ছাড়া আর সব ক্লাবের ফটকে পুলিশের লাগানো তালা ঝুলছে। কিন্তু ওইসব ক্লাব মাদকসেবীরা কৌশলে ব্যবহার করছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে মতিঝিলের আরামবাগ ক্লাবের ছাদ থেকে সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী জানায়, মৃত সাইফুল ক্লাবপাড়ার ইয়াবাসেবী। লাশ উদ্ধারের আগের দিন দুপুরে সাইফুলসহ আরও ৪/৫ জনকে ক্লাবের ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করতে দেখেছেন এলাকার লোকজন। আশপাশের বাড়ির জানালা দিয়ে বাসিন্দারা এ দৃশ্য প্রায় সব সময় দেখেন।

আরামবাগ ক্লাবের পাশের এক বাসিন্দা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্লাবের ভেতরে যখন মাদক সেবন হয়, তখন পুলিশের কোনো খোঁজ থাকে না। পুলিশের সোর্স জুলহাস এখন ক্লাবপাড়ার ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বড় ডিলার। তার সহযোগী সেন্টু, রনি, জাফরসহ আরও অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন মিলে ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ত। এখন খুচরা ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক এলাকায় বিক্রি করে তারা।

মতিঝিলের ক্লাবপাড়ার আজহার উদ্দিন নামের এক বাসিন্দা বলেন, করোনার কারণে সন্ধ্যার পর ক্লাবপাড়া অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে মাদকসেবীরা ক্লাবগুলোর দেয়াল টপকে ভেতরে আড্ডা দেয়, ইয়াবা সেবন করে। 

ক্লাবগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর ক্লাবগুলোতে এখনো তালা ঝুলছে। এর মধ্যে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে ক্লাবগুলোতে চুরিসহ অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী আরও জানায়, মাস তিনেক আগে মতিঝিলের আরামবাগ ক্লাবের দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে চোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রাংশসহ প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাদকসেবীরা। ক্লাবগুলোতে এখন মাদক সেবনের জমজমাট আসর বসে।

জানতে চাইলে আরামবাগ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর ক্লাবগুলোতে তালা মেরে চাবি পুলিশ নিয়ে গেছে। সামনে খেলাধুলার দলবদল হবে। এ অবস্থায় সামনে ক্রীড়াঙ্গনের কী পরিস্থিতি হবে সেটা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের আগেই চিন্তা করতে হবে। যতদিন পুলিশ ক্লাবের তালা খুলে কর্র্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে না দেবে ততদিন এর নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব পুলিশের।

গুলিস্তানে অবস্থিত পীর ইয়ামেনী মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মুক্তিযাদ্ধা ক্লাব বন্ধ থাকলেও রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডা থাকে। তারা কৌশলে ভেতর প্রবেশ করে নানা অপকর্ম করছে। ভোর হলে তারা আবার চলে যায়। অনেকে দেখেও না দেখার ভান করে। পুলিশের টহলও থাকে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত