করোনাভাইরাস মহামারীর সাম্প্রতিক ‘হটস্পট’ লাতিন আমেরিকায় মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি এ অঞ্চলটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারীটির নতুন উপকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যান্য অঞ্চলে সংক্রমণের জোয়ারে ভাটার টান শুরু হলেও এখানে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার লাতিন আমেরিকাজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ছাড়ানোর পাশাপাশি মেক্সিকোতে এক দিনে রেকর্ড নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিন মেক্সিকোতে ছয় হাজার ২৮৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এ আরও ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৯১ হাজার ৪১০ জনে এবং মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ৩৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলে ব্রাজিলের পর মেক্সিকোর পরিস্থিতিই সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে।
ব্রাজিলে মহামারী শুরুর পর থেকে দেশটির স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা নথিবদ্ধ করার কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নথিবদ্ধ মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ৩৭৪ জন বলে তারা জানিয়েছে। এর আগে দেশটিতে এ পর্যন্ত দৈনিক মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল ৪ জুন, এক হাজার ৪৭৩ জন।
করোনাভাইরাস মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে সবচেয়ে পর্যুদস্ত দেশ ব্রাজিল। বুধবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড-১৯ ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ব্রাজিলে মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জন ছিল এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৫২ হাজার ৬৪৫। তবে প্রয়োজনের তুলনায় দেশটিতে পরীক্ষার সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
করোনাভাইরাস মহামারীকে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন। করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পদক্ষেপের চেয়ে ব্রাজিলের অর্থনীতি সুরক্ষায় জোর দেওয়া নিয়ে রাজ্য গভর্নরদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ব্রাজিলের একজন ফেডারেল বিচারক প্রেসিডেন্টকে রাজধানী ব্রাসিলিয়াসহ আশপাশের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় জনসমাগমস্থলে মুখে মাস্ক পরার নির্দেশ দিয়েছেন, এর অন্যথা হলে জরিমানা গুনতে হবে বলে সতর্ক করেছেন।
ব্রাজিলের প্রতিবেশী পেরুতে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৬০ হাজার ও মৃত্যুর সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে। পেরুর প্রতিবেশী দেশ চিলিতে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখ ও মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।
মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতেও করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কলম্বিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ হাজার ও মৃত্যুর সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে।
